১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কালী মন্দির উদ্বোধনে সম্প্রীতির অনন্য ছবি, হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে দিলেন শান্তি ও মানবতার বার্তা!

সৈয়দ মফিজুল হোদা,ইন্দাস: ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতা এক এই বার্তাই যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল আজ বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের রোল অঞ্চলের গোপালনগর রায়পাড়ায়। কালী মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সেখানে দেখা গেল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির অনন্য নজির। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অনুষ্ঠানে সামিল হয়ে শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা দিলেন।
উদ্যোক্তা তপন রায় জানান, ১৯৬২ সালে গোপালনগর রায়পাড়ায় প্রথম কালীপুজোর সূচনা হয়। তখন মন্দির ছিল মাটির ঘরে। পরবর্তীতে সেই ঘর ভেঙে ইট ও অ্যাসবেস্টরের কাঠামো তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে নতুন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজ সেই মন্দিরের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। কার্তিক অমাবস্যায় দীপাবলি ও কালীপুজোর পাশাপাশি আষাঢ় মাসেও এখানে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য নারায়ণ সেবারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শেখ রবিউল হোসেন বলেন, ‘সনাতন’ শব্দের প্রকৃত অর্থ চিরন্তন বা শাশ্বত। শুধু মুখে সনাতনী বললেই হবে না, সনাতনের মূল শিক্ষা বাস্তব জীবনে পালন করতে হবে। তাঁর কথায়, পৃথিবীর কোনও ধর্মই ধ্বংসের কথা বলে না; সব ধর্মই শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার কথা বলে।
মন্দির উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠান তাই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক জীবন্ত বার্তা। যে যার ধর্ম পালন করেও অন্য ধর্মকে সম্মান করা—এটাই যে প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়, গোপালনগর রায়পাড়া যেন সেই শিক্ষাই দিল সমাজকে।

সতীপীঠ কঙ্কালীতলায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, মহিলা ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কালী মন্দির উদ্বোধনে সম্প্রীতির অনন্য ছবি, হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে দিলেন শান্তি ও মানবতার বার্তা!

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
সৈয়দ মফিজুল হোদা,ইন্দাস: ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবতা এক এই বার্তাই যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল আজ বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের রোল অঞ্চলের গোপালনগর রায়পাড়ায়। কালী মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সেখানে দেখা গেল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির অনন্য নজির। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অনুষ্ঠানে সামিল হয়ে শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা দিলেন।
উদ্যোক্তা তপন রায় জানান, ১৯৬২ সালে গোপালনগর রায়পাড়ায় প্রথম কালীপুজোর সূচনা হয়। তখন মন্দির ছিল মাটির ঘরে। পরবর্তীতে সেই ঘর ভেঙে ইট ও অ্যাসবেস্টরের কাঠামো তৈরি করা হয়। ২০১৯ সালে নতুন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজ সেই মন্দিরের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। কার্তিক অমাবস্যায় দীপাবলি ও কালীপুজোর পাশাপাশি আষাঢ় মাসেও এখানে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য নারায়ণ সেবারও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি শেখ রবিউল হোসেন বলেন, ‘সনাতন’ শব্দের প্রকৃত অর্থ চিরন্তন বা শাশ্বত। শুধু মুখে সনাতনী বললেই হবে না, সনাতনের মূল শিক্ষা বাস্তব জীবনে পালন করতে হবে। তাঁর কথায়, পৃথিবীর কোনও ধর্মই ধ্বংসের কথা বলে না; সব ধর্মই শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার কথা বলে।
মন্দির উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠান তাই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক জীবন্ত বার্তা। যে যার ধর্ম পালন করেও অন্য ধর্মকে সম্মান করা—এটাই যে প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়, গোপালনগর রায়পাড়া যেন সেই শিক্ষাই দিল সমাজকে।