০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

রক্তবর্ণ দেবী, ৩৫০ বছরের পুজো—নবদ্বীপের ‘লালদুর্গা’

নবদ্বীপ: নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো এলাকায় ‘লালদুর্গা’ নামে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুজোয় দেবীর গায়ের রং রক্তবর্ণ। সেই সূত্রেই ভট্টাচার্য বাড়িও ‘লালদুর্গা বাড়ি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেবীর রং লাল হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে অলৌকিক কাহিনি। ভট্টাচার্য পরিবারের একাদশতম বংশধর, ৯৭ বছরের পণ্ডিত কুমারনাথ ভট্টাচার্য জানান, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মিতরা গ্রামে রাঘবরাম ভট্টাচার্য এই পুজোর সূচনা করেন।
কথিত আছে, নবমীর দিন দ্রুত চণ্ডীপাঠ করছিলেন রাঘবরাম। তাঁর ছেলে রামভদ্র পাঠের উচ্চারণ নিয়ে আপত্তি জানালে রাঘবরাম তাঁকে পূর্বমুখী হয়ে চণ্ডীপাঠ করতে বলেন। সেই সময় দেবীমূর্তি পশ্চিমমুখী হয়ে রামভদ্রের দিকে মুখ করে এবং অতসী পুষ্পবর্ণ দেবীর গায়ের রং ধীরে ধীরে রক্তবর্ণ হয়ে যায়। অন্যদিকে রামভদ্রের শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং দশমীর দিন তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই এই পরিবারে দেবীর সামনে চণ্ডীপাঠ বন্ধ।
নবমীতে দেবীকে বোয়াল মাছ ও থোড় ভোগ দেওয়ার রীতিও রয়েছে। তপব্রত ভট্টাচার্য জানান, বোয়াল, কাতলা, রুই-সহ বিভিন্ন মাছ ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীতে নিবেদন করা হয় ১০৮ পদ্মফুল। ২০১৩ সাল থেকে ছাগবলি বন্ধ; গুরুদেবের নির্দেশে এখন চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়।

৩৫০ বছরের ছয় বুড়োর পুজো, আজও অটুট উন্মাদনা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রক্তবর্ণ দেবী, ৩৫০ বছরের পুজো—নবদ্বীপের ‘লালদুর্গা’

আপডেট : ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
নবদ্বীপ: নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো এলাকায় ‘লালদুর্গা’ নামে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুজোয় দেবীর গায়ের রং রক্তবর্ণ। সেই সূত্রেই ভট্টাচার্য বাড়িও ‘লালদুর্গা বাড়ি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দেবীর রং লাল হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে অলৌকিক কাহিনি। ভট্টাচার্য পরিবারের একাদশতম বংশধর, ৯৭ বছরের পণ্ডিত কুমারনাথ ভট্টাচার্য জানান, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মিতরা গ্রামে রাঘবরাম ভট্টাচার্য এই পুজোর সূচনা করেন।
কথিত আছে, নবমীর দিন দ্রুত চণ্ডীপাঠ করছিলেন রাঘবরাম। তাঁর ছেলে রামভদ্র পাঠের উচ্চারণ নিয়ে আপত্তি জানালে রাঘবরাম তাঁকে পূর্বমুখী হয়ে চণ্ডীপাঠ করতে বলেন। সেই সময় দেবীমূর্তি পশ্চিমমুখী হয়ে রামভদ্রের দিকে মুখ করে এবং অতসী পুষ্পবর্ণ দেবীর গায়ের রং ধীরে ধীরে রক্তবর্ণ হয়ে যায়। অন্যদিকে রামভদ্রের শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং দশমীর দিন তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই এই পরিবারে দেবীর সামনে চণ্ডীপাঠ বন্ধ।
নবমীতে দেবীকে বোয়াল মাছ ও থোড় ভোগ দেওয়ার রীতিও রয়েছে। তপব্রত ভট্টাচার্য জানান, বোয়াল, কাতলা, রুই-সহ বিভিন্ন মাছ ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীতে নিবেদন করা হয় ১০৮ পদ্মফুল। ২০১৩ সাল থেকে ছাগবলি বন্ধ; গুরুদেবের নির্দেশে এখন চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়।