৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

দেউচা পাঁচামি নিয়ে রোডম্যাপ সেপ্টেম্বরেই! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বীরভূমের রামপুরহাটে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নে বিশেষজোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বিতর্কিত দেউচা পাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষে বীরভূম গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কংক্রিট রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হবে দেউচা-পাঁচামি নিয়ে। শনিবার, তারাপীঠে পুজো দিয়ে রামপুরহাটে প্রশাসনিক ভবন রক্তকরবীতে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বৈঠকে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করে দেন। তার আগে তারাপীঠে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারকে একহাত নেন। বলেন, “আগের আমলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছিল নো, নো, নো। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ইয়েস, ইয়েস, ইয়েস। অর্থাৎ উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগের পথে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পৌরহিত্যে বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল। ছিলেন বিরোধীদলের সাংসদ-বিধায়করাও। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্ধমানের কয়েকজনকে দেওয়া দেউচা-পাঁচামির জমির পাট্টা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেউচা পাঁচামি নিয়ে বৈঠক করে রোডম্যাপ ঠিক করব। আদিবাসীদের জমি বর্ধমানের তৃণমূলের নেতাদেরকে পাট্টা দেওয়া হয়েছিল বলেই পাট্টা বাতিল করার সিদ্ধান্তটুকু শুধু নেওয়া হয়েছে। পাট্টা দেখিয়ে চাকরি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই চাকরিগুলি বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার খুব শীঘ্রই দেউচা পাঁচামি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত কংক্রিট রোড ম্যাপ তৈরি করবে এবং তা জনসমক্ষে আনা হবে।”
এছাড়া রামপুরহাট ও তারাপীঠ অঞ্চলের ধর্মীয় পর্যটন ও পরিকাঠামো মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতেও রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদলের কয়েকজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই অভিযোগ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফলস কেস দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। চুরি যদি কেউ করে থাকে, তার নিস্তার নেই। ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নিয়েও তদন্ত হয়েছে। চুরি করে কেউ ছাড় পাবেন না।” প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি জানান, ১০ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পিডব্লিউডির রাস্তা সারাতে হবে। সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ, দেউচা পাঁচামি-সহ এনএইচ এবং রেলের অনেকগুলি কাজের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশের আরও শক্তি বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। পুলিশ রেভিনিউ অনেক বাড়িয়েছে। একটা বড় ক্র্যাকডাউন হয়েছে। এখানে ২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একটা ইন্ডিভিজুয়ালের কাছ থেকে বাহান্ন খানা গাড়ি সিজ হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ চাইলে পারে। এর জন্য ইডি, সিবিআই লাগে না। সিআইডি-এসটিএফ লাগে না। এটা বীরভূম জেলা পুলিশ প্রমাণ করেছে।
কৌশিকী আমাবস্যার প্রস্তুতি দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাঁচ কিলোমিটার অন্তর অন্তর ক্যাম্প থাকবে। ওআরএস জল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ থাকবে। টেম্পোরারি মেডিক্যাল ব্যবস্থাও থাকবে। প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। সুইসাইড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে সেই অভিযান আমরা থামাব।
সর্বাধিক পাঠিত

“প্রে ফর নেপাল” চুঁচুড়ায় মানবতার বার্তা নারী শক্তি’র

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

দেউচা পাঁচামি নিয়ে রোডম্যাপ সেপ্টেম্বরেই! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
বীরভূমের রামপুরহাটে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এলাকাভিত্তিক উন্নয়নে বিশেষজোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে বিতর্কিত দেউচা পাঁচামি কয়লাখনি প্রকল্প নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের শেষে বীরভূম গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কংক্রিট রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হবে দেউচা-পাঁচামি নিয়ে। শনিবার, তারাপীঠে পুজো দিয়ে রামপুরহাটে প্রশাসনিক ভবন রক্তকরবীতে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বৈঠকে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করে দেন। তার আগে তারাপীঠে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিগত সরকারকে একহাত নেন। বলেন, “আগের আমলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছিল নো, নো, নো। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ইয়েস, ইয়েস, ইয়েস। অর্থাৎ উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোগের পথে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের সরকারের লক্ষ্য।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর পৌরহিত্যে বীরভূমে প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল। ছিলেন বিরোধীদলের সাংসদ-বিধায়করাও। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্ধমানের কয়েকজনকে দেওয়া দেউচা-পাঁচামির জমির পাট্টা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেউচা পাঁচামি নিয়ে বৈঠক করে রোডম্যাপ ঠিক করব। আদিবাসীদের জমি বর্ধমানের তৃণমূলের নেতাদেরকে পাট্টা দেওয়া হয়েছিল বলেই পাট্টা বাতিল করার সিদ্ধান্তটুকু শুধু নেওয়া হয়েছে। পাট্টা দেখিয়ে চাকরি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই চাকরিগুলি বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার খুব শীঘ্রই দেউচা পাঁচামি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত কংক্রিট রোড ম্যাপ তৈরি করবে এবং তা জনসমক্ষে আনা হবে।”
এছাড়া রামপুরহাট ও তারাপীঠ অঞ্চলের ধর্মীয় পর্যটন ও পরিকাঠামো মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতেও রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদলের কয়েকজন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই অভিযোগ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফলস কেস দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। চুরি যদি কেউ করে থাকে, তার নিস্তার নেই। ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নিয়েও তদন্ত হয়েছে। চুরি করে কেউ ছাড় পাবেন না।” প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি জানান, ১০ অক্টোবরের মধ্যে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং পিডব্লিউডির রাস্তা সারাতে হবে। সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ, দেউচা পাঁচামি-সহ এনএইচ এবং রেলের অনেকগুলি কাজের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পুলিশের আরও শক্তি বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। পুলিশ রেভিনিউ অনেক বাড়িয়েছে। একটা বড় ক্র্যাকডাউন হয়েছে। এখানে ২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একটা ইন্ডিভিজুয়ালের কাছ থেকে বাহান্ন খানা গাড়ি সিজ হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ চাইলে পারে। এর জন্য ইডি, সিবিআই লাগে না। সিআইডি-এসটিএফ লাগে না। এটা বীরভূম জেলা পুলিশ প্রমাণ করেছে।
কৌশিকী আমাবস্যার প্রস্তুতি দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাঁচ কিলোমিটার অন্তর অন্তর ক্যাম্প থাকবে। ওআরএস জল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ থাকবে। টেম্পোরারি মেডিক্যাল ব্যবস্থাও থাকবে। প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। সুইসাইড অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে সেই অভিযান আমরা থামাব।