৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

যাদবপুরে পিএইচডি ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি এবিভিপির; আচার্যের দ্বারস্থ সংগঠন

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবির দ্বারস্থ হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে আচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি। পিএইচডি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ‘দেশবিরোধী গতিবিধি’র অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
এবিভিপির অভিযোগপত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার সময় ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগে অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। ওই ঘটনাতেও আচার্য অথবা উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে এবিভিপি। এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। সংগঠনের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট সম্পাদক সঞ্জীবন দীপবর্মন, গবেষক শুভজিৎ সাহা এবং অনিন্দিতা দাস।
এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, যাদবপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওঠা কোনও অভিযোগ বা অনিয়মকে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তির প্রয়োজন বলেও দাবি তাঁর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এবিভিপির অবস্থানকে সমর্থন করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি থেকে যাদবপুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে এবিভিপি লড়াই করেছে, এবার যাদবপুরও সেই তালিকায় রয়েছে। তাঁর মন্তব্য, “এবার যাদবপুর বাকি আছে। ওটাও হয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিবাদ করেছে এসএফআই। সংগঠনের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার চেষ্টা চলছে। হুমকি বা রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও দাবি এসএফআই নেতৃত্বের। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও তুলেছে তারা।
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এসএফআইয়ের বক্তব্য, এই ‘আজাদি’ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষালাভের অধিকার এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের দাবি। রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে আগামীদিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তদন্তের দাবি এবং ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের।
সর্বাধিক পাঠিত

“প্রে ফর নেপাল” চুঁচুড়ায় মানবতার বার্তা নারী শক্তি’র

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

যাদবপুরে পিএইচডি ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের দাবি এবিভিপির; আচার্যের দ্বারস্থ সংগঠন

আপডেট : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবির দ্বারস্থ হল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে আচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সংগঠনটি। পিএইচডি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ‘দেশবিরোধী গতিবিধি’র অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
এবিভিপির অভিযোগপত্রে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার সময় ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগে অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। ওই ঘটনাতেও আচার্য অথবা উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছে এবিভিপি। এছাড়াও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। সংগঠনের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী, রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট সম্পাদক সঞ্জীবন দীপবর্মন, গবেষক শুভজিৎ সাহা এবং অনিন্দিতা দাস।
এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যের বক্তব্য, যাদবপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওঠা কোনও অভিযোগ বা অনিয়মকে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তির প্রয়োজন বলেও দাবি তাঁর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এবিভিপির অবস্থানকে সমর্থন করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি থেকে যাদবপুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে এবিভিপি লড়াই করেছে, এবার যাদবপুরও সেই তালিকায় রয়েছে। তাঁর মন্তব্য, “এবার যাদবপুর বাকি আছে। ওটাও হয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিবাদ করেছে এসএফআই। সংগঠনের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার চেষ্টা চলছে। হুমকি বা রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও দাবি এসএফআই নেতৃত্বের। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিও তুলেছে তারা।
‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এসএফআইয়ের বক্তব্য, এই ‘আজাদি’ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে শিক্ষালাভের অধিকার এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের দাবি। রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে আগামীদিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তদন্তের দাবি এবং ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘাত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের।