২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ, ফের আন্দোলনে সিজেপি!

নতুন গতি, নয়াদিল্লি: শাসকের মৌখিক আশ্বাস যে কেবলই গণবিক্ষোভ থামানোর একটি প্রতারণামূলক কৌশল, তা আবারও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। প্রতিশ্রুতির দেওয়াল ভেঙে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগে এবার কেন্দ্রকে সরাসরি রাজপথে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রাজপথে নামছে তারা। ইন্ডিয়া গেট থেকে পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত এক সুবিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়ে সংগঠনটির স্পষ্ট বার্তা—‘‘ককরোচদের জন্য প্রস্তুত থাকুন, সব কিছু মনে রাখা হবে।’’ পুলিশের প্রশাসনিক রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞার ভ্রূকুটিকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের অবস্থানে আপসহীন আন্দোলনকারীরা।
যন্তর মন্তরে প্রায় একমাসব্যাপী চলা দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রের তরফে লিখিত প্রতিশ্রুতির আশ্বাস পেয়ে ধর্না প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। নিট কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছিল তাঁদের অন্যতম প্রাথমিক শর্ত। সেই দাবি মেনে নিয়ে মন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র বাকি সমস্ত দাবি অবিলম্বে পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সময় গড়াতেই শাসকের সেই মেকি প্রতিশ্রুতির মুখোশ খসে পড়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের তীব্র অভিযোগ, মূল চারটি প্রতিশ্রুতির মধ্যে তিনটিই আজ পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জবাবদিহির উদ্দেশ্যে পেশ করা ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের একটিরও উত্তর দেওয়ার সৎ সাহস দেখাতে পারেনি প্রশাসন। ফলে রাজপথের সংঘাতই এখন শেষ বিকল্প।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট ঘোষণা, পূরণ না-হওয়া সেই তিনটি দাবি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। নিট দুর্নীতির বিষবাষ্পে জর্জরিত হয়ে যে সমস্ত অসহায় ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অনতিবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনরত নিরপরাধ ছাত্র-যুবদের কণ্ঠরোধ করতে যে সমস্ত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপর চালানো নারকীয় পুলিশি লাঠিপেটার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাফের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
এদিকে, সিজেপির এই সংঘাতমূলক কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই দাবি করা হয়েছে যে এই পদযাত্রার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং ইন্ডিয়া গেটের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে যানজট ও আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে কোনো জমায়েতের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তবে পুলিশি লালফিতার চোখরাঙানিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে সিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দমনপীড়ন চালিয়ে গণআক্রোশের আগুন নেভানো অসম্ভব।
শুধু নিট দুর্নীতি নয়, গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলির জরাজীর্ণ পরিকাঠামো বদলাতে ১৫ অগস্ট থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান। রাজস্থানে সেই পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে। তবে মার খেয়ে পিছু হটার পাত্র তারা নয়। নেতৃত্বের শাণিত বার্তা, রক্তের দাগ ও আঘাত মেখে লড়াইয়ের ময়দান আরও চওড়া হবে। শাসকের প্রতিশ্রুতিখেলাপি ও প্রশাসনিক রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির বুকে গর্জে উঠতে চলেছে এক আপসহীন লড়াই।

একই দিনে ১০ নবজাতকের মৃত্যু, মালদা মেডিকেলে তলব স্বাস্থ্যভবনের রিপোর্ট

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ, ফের আন্দোলনে সিজেপি!

আপডেট : ২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার
নতুন গতি, নয়াদিল্লি: শাসকের মৌখিক আশ্বাস যে কেবলই গণবিক্ষোভ থামানোর একটি প্রতারণামূলক কৌশল, তা আবারও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। প্রতিশ্রুতির দেওয়াল ভেঙে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করার অভিযোগে এবার কেন্দ্রকে সরাসরি রাজপথে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রাজপথে নামছে তারা। ইন্ডিয়া গেট থেকে পুলিশ সদর দফতর পর্যন্ত এক সুবিশাল পদযাত্রার ডাক দিয়ে সংগঠনটির স্পষ্ট বার্তা—‘‘ককরোচদের জন্য প্রস্তুত থাকুন, সব কিছু মনে রাখা হবে।’’ পুলিশের প্রশাসনিক রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞার ভ্রূকুটিকে অগ্রাহ্য করে নিজেদের অবস্থানে আপসহীন আন্দোলনকারীরা।
যন্তর মন্তরে প্রায় একমাসব্যাপী চলা দীর্ঘ আন্দোলনের পর কেন্দ্রের তরফে লিখিত প্রতিশ্রুতির আশ্বাস পেয়ে ধর্না প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। নিট কেলেঙ্কারির নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছিল তাঁদের অন্যতম প্রাথমিক শর্ত। সেই দাবি মেনে নিয়ে মন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কেন্দ্র বাকি সমস্ত দাবি অবিলম্বে পূরণ করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সময় গড়াতেই শাসকের সেই মেকি প্রতিশ্রুতির মুখোশ খসে পড়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের তীব্র অভিযোগ, মূল চারটি প্রতিশ্রুতির মধ্যে তিনটিই আজ পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জবাবদিহির উদ্দেশ্যে পেশ করা ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের একটিরও উত্তর দেওয়ার সৎ সাহস দেখাতে পারেনি প্রশাসন। ফলে রাজপথের সংঘাতই এখন শেষ বিকল্প।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট ঘোষণা, পূরণ না-হওয়া সেই তিনটি দাবি নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। নিট দুর্নীতির বিষবাষ্পে জর্জরিত হয়ে যে সমস্ত অসহায় ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে অনতিবিলম্বে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনরত নিরপরাধ ছাত্র-যুবদের কণ্ঠরোধ করতে যে সমস্ত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপর চালানো নারকীয় পুলিশি লাঠিপেটার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দিল্লি পুলিশ ও র‌্যাফের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
এদিকে, সিজেপির এই সংঘাতমূলক কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই দাবি করা হয়েছে যে এই পদযাত্রার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং ইন্ডিয়া গেটের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে যানজট ও আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে কোনো জমায়েতের অনুমোদন দেওয়া হবে না। তবে পুলিশি লালফিতার চোখরাঙানিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব না দিয়ে সিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দমনপীড়ন চালিয়ে গণআক্রোশের আগুন নেভানো অসম্ভব।
শুধু নিট দুর্নীতি নয়, গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলির জরাজীর্ণ পরিকাঠামো বদলাতে ১৫ অগস্ট থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান। রাজস্থানে সেই পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কে। তবে মার খেয়ে পিছু হটার পাত্র তারা নয়। নেতৃত্বের শাণিত বার্তা, রক্তের দাগ ও আঘাত মেখে লড়াইয়ের ময়দান আরও চওড়া হবে। শাসকের প্রতিশ্রুতিখেলাপি ও প্রশাসনিক রক্তচক্ষুর বিরুদ্ধে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লির বুকে গর্জে উঠতে চলেছে এক আপসহীন লড়াই।