বিশেষ প্রতিবেদন: পার্ক স্ট্রিট পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এক গরিব মহিলাকে ধমকানোর বিষয়টি এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির চর্চিত বিষয়। যার রেশ এখনও মিলিয়ে যায়নি। ফুটপাথবাসী ওই মহিলার ‘অপরাধ’ ছিল, কেন তিনি ফুটপাথ ‘নোংরা’ করে বাচ্চার জন্য দুধ গরম করছিলেন?
সন্তানের জন্য দুধ গরম করতে গিয়ে রাজ্যের এক মন্ত্রীর কাছে হেনস্থা হওয়ার এই দৃশ্য গোটা রাজ্যের মানুষ চাক্ষুষ করেছেন। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। নিজের বক্তব্যের সপক্ষে সাফাই গাইতেও দেখা গিয়েছে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি।
তবে বিষয়টি এবার অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। বিশেষ করে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনের একটি ফেসবুক পোস্টে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পার্ক স্ট্রিটের টটি লেনের ফুটপাথে বিজেপির একটি পার্টি অফিস এবং শহিদ বেদির ছবি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি নতুন গতি) পোস্ট করে সুদীপ প্রশ্ন তুলেছেন, ফুটপাথে গড়ে ওঠা সেই ‘অবৈধ’ পার্টি অফিস ভেঙে ফেলা হবে কিনা? ফেসবুকে সিপিএমের কলকাতা জেলা ও রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেন লিখেছেন, “ম্যাডাম Agnimitra Paul… ফুটপাতে দুধ ফোটানো নিয়ে আপনার আপত্তির কথা শুনলাম, শুনলাম ফুটপাত দখল হলে মানুষকে রাস্তায় নেমে এসে হাঁটাচলা করতে বাধ্য হওয়ার কথা! আপনি ‘মানবিক’ বলেই নাকি ফুটপাত পরিস্কার করতে নেমেছেন! লাঠি মেরে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন ঘর সংসার, স্টোভের খাবার… আপনাকে ওই অঞ্চলে ফুটপাত দখল করে পার্টি অফিস, ক্লাব ঘর, শহীদ বেদী বানাবার তিনটি ছবি পাঠাচ্ছি! একটু কষ্ট করে ভেঙে দিয়ে আসবেন প্লিজ?
সকলে বলছে এইসব পার্টি অফিস করবেন বলেই নাকি আপনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফুটপাত গরীবগুর্বো মুক্ত করবার! সে কারণেই এই হম্বিতম্বি!
আমরা বিশ্বাস করছি না সবটা! আপনি নিশ্চয়ই এই জবরদখলকারীদের কাছ থেকে পার্ক স্ট্রীট আর তার আশেপাশের ফুটপাত দখল মুক্ত করবেন!”
রাস্তার ফুটপাথ কোনওভাবেই দখল হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। তা সে সাধারণ মানুষের দ্বারাই হোক বা কোনও রাজনৈতিক দল, ক্লাব কিংবা ধর্মীয় সংগঠন দ্বারা। কিন্তু মানুষের জন্যই তো রাজনীতি। তাই রাস্তার ফুটপাথে যাঁরা বাধ্য হন জীবনযাপন করতে, একরত্তি শিশুর জন্য দুধ গরম করতে, তাঁদের জন্য কি মানবিক কোনও দায়বদ্ধতা থাকবে না ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর? কেন তাঁদের দিনের পর দিন ফুটপাথে কাটাতে হবে? এই প্রশ্ন কি কখনও নিজেকে করেছেন মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল? তিনি রাস্তার ফুটপাথে বাচ্চার জন্য গরিব মায়ের দুধ গরম করা দেখে মেজাজ হারাতেই পারেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য ধমকের সুরে পুলিশ প্রশাসন, এমনকি পারিষদদেরও নির্দেশ দিতে পারেন। কিন্তু, তাতে কি গরিব ভারতের সেই চেনা ছবিটা রাতারাতি মুছে যায়! পার্ক স্ট্রিটের ওই একই অঞ্চলের ফুটপাথজুড়ে বিজেপি দলের যে পার্টি অফিস, ক্লাবঘর, শহিদ বেদি থাকার অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধেও কি এভাবেই পদক্ষেপ নিতে দেখা যাবে মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে? মানুষ কিন্তু জানতে চাইছে।
নতুন গতি 

























