নাজমুস সাহাদাত, গোয়ালপোখর: ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে সামনে রেখে উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে আন্দোলনে নামল আজাদ হিন্দ মঞ্চ। বৃহস্পতিবার গোয়ালপোখর ব্লক চত্বরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর-এ বাদ পড়া ভোটারদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি তোলা হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টর।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নাম বাদ যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোটার হিসেবে তালিকায় ছিলেন, তাঁদের নাম কীভাবে বাদ গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ আলাদা করে খতিয়ে দেখে প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত তালিকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভিক্টর দাবি করেন, শুধু গোয়ালপোখর বিধানসভা এলাকাতেই প্রায় ৩২ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর আরও দাবি, উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার এবং গোটা রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে এই সংখ্যাগুলি তাঁর দেওয়া হিসাব বলেই তিনি জানান।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষদের সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা নিয়েও সরব হন ভিক্টর। তাঁর বক্তব্য, অনেকের বিষয় এখনও আদালত বা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। তাই কোনও বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনও ব্যক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
এদিন গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানীকেও নিশানা করেন ভিক্টর। তাঁর প্রশ্ন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক হওয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে এত মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের সময়ে তিনি কোথায়? সাধারণ মানুষের সমস্যার সময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান। পাশাপাশি যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের বিষয় দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।
গোয়ালপোখর ব্লক চত্বরে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলি সরব হয়েছে। গোয়ালপোখরের এই আন্দোলনও সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এল। এখন যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের অভিযোগ কীভাবে যাচাই করা হয় এবং নির্বাচন কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
নতুন গতি 






















