০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় পুতিন ও সির

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সি চিন পিং।

কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার বৈঠক করেন এই দুই নেতা।

মে মাসের পর এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করলেন দুই নেতা। বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং বলেন, আবার পুতিনের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি আনন্দিত। বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সামনে এই সম্পর্কের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখা উচিত।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুতিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দুই দিনব্যাপী এসসিও সম্মেলন হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে এক ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার সাড়ে চার বছর ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ছয় মাস পর এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য জানিয়েছেন, পুতিন ও সির মধ্যে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শুধু প্রসঙ্গক্রমে কথা উঠেছে।

সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদি। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে পুতিন বলেন, মস্কোও এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে।

সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেরও আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া ও চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এসসিওর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শাহবাজ অংশ নেবেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ।

এসসিওর ১০টি সদস্যদেশের পাশাপাশি বর্তমানে জোটের ১৫টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এর মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার আছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া জোটটির পর্যবেক্ষক দেশ।

সর্বাধিক পাঠিত

ভারতে থাকা তামিল শরণার্থীদের দেশে ফেরার পথ সহজ করল শ্রীলঙ্কা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাশিয়া–চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় পুতিন ও সির

আপডেট : ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশ দুটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সি চিন পিং।

কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল সোমবার বৈঠক করেন এই দুই নেতা।

মে মাসের পর এই প্রথম মুখোমুখি বৈঠক করলেন দুই নেতা। বৈঠকের শুরুতে সি চিন পিং বলেন, আবার পুতিনের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি আনন্দিত। বেইজিং ও মস্কোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সামনে এই সম্পর্কের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখা উচিত।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুতিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দুই দিনব্যাপী এসসিও সম্মেলন হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে এক ডজনের বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার সাড়ে চার বছর ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ছয় মাস পর এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অবশ্য জানিয়েছেন, পুতিন ও সির মধ্যে মূলত দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শুধু প্রসঙ্গক্রমে কথা উঠেছে।

সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মোদি। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে পুতিন বলেন, মস্কোও এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে।

সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানেরও আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে রাশিয়া ও চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এসসিওর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, সি চিন পিং, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শাহবাজ অংশ নেবেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ।

এসসিওর ১০টি সদস্যদেশের পাশাপাশি বর্তমানে জোটের ১৫টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এর মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার আছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া জোটটির পর্যবেক্ষক দেশ।