১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’এর শিকার ইন্টার্নরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ‘থ্রেট কালচার’ অব্যাহত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ, পিজিটিদের হুমকিতে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা রোগী দেখতে হচ্ছে ইন্টার্নদের এবং প্রশ্ন তুললেই ‘ইন্টার্নশিপ বাড়িয়ে দেওয়া’ ও ‘স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনে বিলম্ব’এর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে হাত রয়েছে জুনিয়র পিজিটি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষের একাংশের। মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি অবশ্য অস্বীকার করেননি এমন অভিযোগ মেলার কথা।
ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, “নানা বিভাগে নিয়মিত ফ্যাকাল্টি বা সিনিয়র কনসালট্যান্টদের রাউন্ড না হওয়ায় সিনিয়র চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়াই ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।” অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নানা বিভাগে রোজ ১২-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টার্নদের কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় টানা ৪৮-৫২ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটির অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, “সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় রিপোর্ট করার পরেও রাত দুটো অবধি হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিছুক্ষেত্রে রাত ১১টায় পিজিটি রাউন্ড শুরু হওয়ার কারণে ইন্টার্নদের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
এর ফলে ঘুমের কমতি, মানসিক চাপ ও ক্লান্তির পাশাপাশি ইন্টার্নদের পড়াশোনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ, ইন্টার্নদের প্রথম বর্ষের পিজিটিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা না থাকায় রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় অংশকে নির্ভরশীল হতে হচ্ছে দ্বিতীয় বর্ষের পিজিটিদের উপর, যা প্রশ্ন তুলছে সমগ্র পরিষেবা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে। পাশাপাশি, ২০২০ ব্যাচের একাধিক ইন্টার্ন এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন পাননি বলেও অভিযোগ, যার জেরে তাঁরা পেশাগত ও আর্থিক সমস্যায় পড়ছেন।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যভবন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর এবং কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ এবং তথ্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে এনএমসির নিয়মানুযায়ী ডিউটি ব্যবস্থা চালু সহ সিনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার তত্ত্বাবধান এবং রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রিক সমস্যার অবসান ঘটানো হোক। এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, “ইন্টার্নদের একাংশের কাছ থেকে এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আমি সদ্য প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নিয়েছি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে প্রথমবর্ষের পিজিটিরা তাঁদের সময়মতো কাজ করছেন। সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ এখনও কলকাতামুখী হয়ে রয়েছেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”
সর্বাধিক পাঠিত

গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবীর মৃত্যু, শোকের ছায়া মুকুন্দপুরে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচার’এর শিকার ইন্টার্নরা

আপডেট : ১২ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ‘থ্রেট কালচার’ অব্যাহত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগ, পিজিটিদের হুমকিতে টানা ১২-১৪ ঘণ্টা রোগী দেখতে হচ্ছে ইন্টার্নদের এবং প্রশ্ন তুললেই ‘ইন্টার্নশিপ বাড়িয়ে দেওয়া’ ও ‘স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনে বিলম্ব’এর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে হাত রয়েছে জুনিয়র পিজিটি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষের একাংশের। মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি অবশ্য অস্বীকার করেননি এমন অভিযোগ মেলার কথা।
ইন্টার্ন ও চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, “নানা বিভাগে নিয়মিত ফ্যাকাল্টি বা সিনিয়র কনসালট্যান্টদের রাউন্ড না হওয়ায় সিনিয়র চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়াই ওয়ার্ড ও অপারেশন থিয়েটারের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।” অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নানা বিভাগে রোজ ১২-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ইন্টার্নদের কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি অনেক জায়গায় টানা ৪৮-৫২ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটির অভিযোগও উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, “সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় রিপোর্ট করার পরেও রাত দুটো অবধি হাসপাতালে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিছুক্ষেত্রে রাত ১১টায় পিজিটি রাউন্ড শুরু হওয়ার কারণে ইন্টার্নদের অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
এর ফলে ঘুমের কমতি, মানসিক চাপ ও ক্লান্তির পাশাপাশি ইন্টার্নদের পড়াশোনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ, ইন্টার্নদের প্রথম বর্ষের পিজিটিদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সিনিয়র চিকিৎসকরা না থাকায় রোগী পরিষেবার ক্ষেত্রে বড় অংশকে নির্ভরশীল হতে হচ্ছে দ্বিতীয় বর্ষের পিজিটিদের উপর, যা প্রশ্ন তুলছে সমগ্র পরিষেবা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে। পাশাপাশি, ২০২০ ব্যাচের একাধিক ইন্টার্ন এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন পাননি বলেও অভিযোগ, যার জেরে তাঁরা পেশাগত ও আর্থিক সমস্যায় পড়ছেন।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যভবন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তর এবং কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ এবং তথ্য পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে এনএমসির নিয়মানুযায়ী ডিউটি ব্যবস্থা চালু সহ সিনিয়র চিকিৎসকদের লাগাতার তত্ত্বাবধান এবং রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রিক সমস্যার অবসান ঘটানো হোক। এই প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, “ইন্টার্নদের একাংশের কাছ থেকে এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আমি সদ্য প্রিন্সিপালের দায়িত্ব নিয়েছি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তবে প্রথমবর্ষের পিজিটিরা তাঁদের সময়মতো কাজ করছেন। সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ এখনও কলকাতামুখী হয়ে রয়েছেন। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”