বিশেশ্বর রায়, ক্রান্তি: সরকারি অনুমোদিত ‘পথের সাথী’ রিসোর্টের পুরনো সরঞ্জাম উদ্ধারকে কেন্দ্র করে শনিবার জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের লাটাগুড়িতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। একদিকে সরকারি সম্পত্তি দীর্ঘদিন দোকানঘরে মজুত রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে সেই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে এলাকাবাসী ও বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীরা লাটাগুড়ির দুটি দোকানঘরে তল্লাশি চালিয়ে এসি, ফ্যান, ফ্রিজ-সহ রিসোর্টের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পান। তাঁদের দাবি, কয়েক লক্ষ টাকার ওই সামগ্রী প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে রাখা ছিল। খবর পেয়ে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরঞ্জামগুলি বাজেয়াপ্ত করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
দোকানের মালিক রাখি শিকদার জানান, এলাকার কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধেই তিনি সামগ্রীগুলি দোকানঘরে রাখতে দিয়েছিলেন। এগুলি সরকারি সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর বিজেপি যুব মোর্চার নেতা তন্ময় দে ও মৃন্ময় ঘোষ অভিযোগ করেন, তৃণমূল জেলা সভানেত্রীর নির্দেশেই সরকারি রিসোর্টের সরঞ্জাম ব্যক্তিগত দোকানঘরে রাখা হয়েছিল। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগ খারিজ করে তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, তাঁর প্রয়াত স্বামী ও রাজা ভৌমিক যৌথভাবে রিসোর্টের কিছু সরঞ্জামের মালিক ছিলেন। পরে রিসোর্টটি অন্যদের লিজে দেওয়া হলে পুরনো সরঞ্জাম সরিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল বলেও তাঁর দাবি। তবে বর্তমানে ওই সরঞ্জাম সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।
ঘটনার জেরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মহুয়া গোপের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উল্লেখ্য, সরকারি সম্পত্তি মজুত থাকার অভিযোগ এবং তার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ। তদন্তের রিপোর্টের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নতুন গতি 

















