০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আরজিকর অভিযুক্ত পুরপ্রধানকে নিশানায় ডিমের সঙ্গে ইট-পাটকেলও, থানার বাইরে রণক্ষেত্র, জখম পুলিশকর্মীরা

রাজ্যে বিক্ষোভের নয়া ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে ডিম থেরাপি। এবার শুধু ডিম নয়, সঙ্গে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করলেন বিক্ষোভকারীরা। বৃষ্টির মধ্যেও খড়দহ থানার বাইরে রণক্ষেত্র। আরজি করের সৎকার-কাণ্ডে ধৃত অভিযুক্ত খড়দহের প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থানার বাইরে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশো লোক। পুলিশ পরিস্থিতি এড়াতে চটজলদি সোমনাথ দে-কে গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। সুরক্ষা দিতে মাথায় হেলমেট পরানো হয়। কিন্তু রেহাই মেলেনি তাতেও। শুধু ডিম নয়, থানার বাইরে থেকে খড়দহের প্রাক্তন পুরপ্রধানকে ইট-পাটকেলও ছোড়া হল। কোনওরকমে তাঁকে তোলা হয় গাড়িতে। অভিযুক্ত প্রাক্তন পুরপ্রধানকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে একাধিক পুলিশকর্মীর জখম হন বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল এই ঘটনায় অন্য অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়। নির্মল ঘোষকে নিশানায় ছোড়া হয়েছিল শুধু ডিম। এবার মাত্র ছাড়িয়ে ইট-পাটকেল ছুড়লেন বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা। পানিহাটির চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। এরপর নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবো দলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নতুন করে মামলা রুজু হয় সেই ঘটনায়। খড়দহ থানায় নতুন করে এফআইআর করেন নির্যাতিতার বাবা। ওই মামলায় অপর দুই অভিযুক্ত পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে এই মামলায় তাঁরা জামিন পেয়ে যান। অন্য মামলায় তাঁদের জেল হেফাজত হয়েছে। এত দিন প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে সোমনাথকে।
তার আগে এদিন তাঁকে থানায় আনা হয়েছে শুনেই কয়েকশো লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান থানার বাইরে। পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। থানার বাইরে বের করতেই শুরু হয় ডিম, ইট-পাটকেল ছোড়া। ঠিক একই ছবি দেখা গিয়েছিল অপর দুই ধৃত নির্মল এবং সঞ্জীবের ক্ষেত্রেও। জখম হয়েছিলেন দু’জনেই। এমনকী বিক্ষোভের সময় জখম হওয়া সঞ্জীবের চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকেই শিক্ষা নিয়ে সোমনাথের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর মাথায় বাইকের হেলমেট পরিয়েছিল পুলিশ। দ্রুত তাঁকে নিয়ে থানা থেকে বের করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা হয়। কিন্তু ওই অল্প সময়ের ব্যবধানে রণক্ষেত্রের চেহারা নয় থানা চত্বর। হুলস্থুল পড়ে যায়। পুলিশকর্মীরাও লক্ষা পাননি এই বিক্ষোভ থেকে। তাঁদের গায়েও লাগে ডিম, ইট-পাটকেল।
এদিনই সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় কর্নাটকে ধৃত সোমনাথকে। দুপুরেই ব্যারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। তার মধ্যেই যে এমন হামলার ঘটনা ঘটে যাবে বুঝে উঠতে পারেনি পুলিশও। বিক্ষোভ সামলে প্রিজন ভ্যানে তুলে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে সোমনাথকে। আরজি কর-কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের পাশাপাশি দ্রুত সৎকার করা-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ধারা দেওয়া হয়েছে সোমনাথের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ। আদালতে এই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলে সেই মতো তদন্তকারী অফিসাররা জেরা চালাবে।

১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

আরজিকর অভিযুক্ত পুরপ্রধানকে নিশানায় ডিমের সঙ্গে ইট-পাটকেলও, থানার বাইরে রণক্ষেত্র, জখম পুলিশকর্মীরা

আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
রাজ্যে বিক্ষোভের নয়া ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে ডিম থেরাপি। এবার শুধু ডিম নয়, সঙ্গে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করলেন বিক্ষোভকারীরা। বৃষ্টির মধ্যেও খড়দহ থানার বাইরে রণক্ষেত্র। আরজি করের সৎকার-কাণ্ডে ধৃত অভিযুক্ত খড়দহের প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থানার বাইরে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশো লোক। পুলিশ পরিস্থিতি এড়াতে চটজলদি সোমনাথ দে-কে গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। সুরক্ষা দিতে মাথায় হেলমেট পরানো হয়। কিন্তু রেহাই মেলেনি তাতেও। শুধু ডিম নয়, থানার বাইরে থেকে খড়দহের প্রাক্তন পুরপ্রধানকে ইট-পাটকেলও ছোড়া হল। কোনওরকমে তাঁকে তোলা হয় গাড়িতে। অভিযুক্ত প্রাক্তন পুরপ্রধানকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে একাধিক পুলিশকর্মীর জখম হন বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল এই ঘটনায় অন্য অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময়। নির্মল ঘোষকে নিশানায় ছোড়া হয়েছিল শুধু ডিম। এবার মাত্র ছাড়িয়ে ইট-পাটকেল ছুড়লেন বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা। পানিহাটির চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। এরপর নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবো দলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে নতুন করে মামলা রুজু হয় সেই ঘটনায়। খড়দহ থানায় নতুন করে এফআইআর করেন নির্যাতিতার বাবা। ওই মামলায় অপর দুই অভিযুক্ত পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে এই মামলায় তাঁরা জামিন পেয়ে যান। অন্য মামলায় তাঁদের জেল হেফাজত হয়েছে। এত দিন প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে সোমনাথকে।
তার আগে এদিন তাঁকে থানায় আনা হয়েছে শুনেই কয়েকশো লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান থানার বাইরে। পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। থানার বাইরে বের করতেই শুরু হয় ডিম, ইট-পাটকেল ছোড়া। ঠিক একই ছবি দেখা গিয়েছিল অপর দুই ধৃত নির্মল এবং সঞ্জীবের ক্ষেত্রেও। জখম হয়েছিলেন দু’জনেই। এমনকী বিক্ষোভের সময় জখম হওয়া সঞ্জীবের চোখে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকেই শিক্ষা নিয়ে সোমনাথের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর মাথায় বাইকের হেলমেট পরিয়েছিল পুলিশ। দ্রুত তাঁকে নিয়ে থানা থেকে বের করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা হয়। কিন্তু ওই অল্প সময়ের ব্যবধানে রণক্ষেত্রের চেহারা নয় থানা চত্বর। হুলস্থুল পড়ে যায়। পুলিশকর্মীরাও লক্ষা পাননি এই বিক্ষোভ থেকে। তাঁদের গায়েও লাগে ডিম, ইট-পাটকেল।
এদিনই সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় কর্নাটকে ধৃত সোমনাথকে। দুপুরেই ব্যারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। তার মধ্যেই যে এমন হামলার ঘটনা ঘটে যাবে বুঝে উঠতে পারেনি পুলিশও। বিক্ষোভ সামলে প্রিজন ভ্যানে তুলে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছে সোমনাথকে। আরজি কর-কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের পাশাপাশি দ্রুত সৎকার করা-সহ বিভিন্ন অভিযোগের ধারা দেওয়া হয়েছে সোমনাথের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ। আদালতে এই মর্মে আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিলে সেই মতো তদন্তকারী অফিসাররা জেরা চালাবে।