০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে সঠিক সময়ে, বাম-তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর 

নিজস্ব প্রতিবেদন: “সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে। আর কিছুদিন চললে সংস্কার হারিয়ে যেত। শিক্ষাব্যবস্থাটাই ধ্বংস হয়ে যেত।” বৃহস্পতিবার গোলপার্কে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে বিগত বামফ্রন্ট সরকার ও তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধরে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছিল, বাম আমলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ ১০ বছরেও বাংলায় বেহাল শিক্ষা— পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।” তিনি অভিযোগ করেন, স্কুলের সিলেবাসে তোষণের রাজনীতি, ভাষার বিকৃতি এবং পড়ুয়াদের মনে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল বিগত ১০ বছরে।
     শুভেন্দু আরও বলেন, “কমিউনিস্ট আমলে শুধু ইংরাজি ভাষাতেই তালাচাবি পড়েনি, কম্পিউটার শিক্ষার উপরও বাধা দেওয়া হয়েছিল। আর তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের মধ্যে গত ১০ বছরে সিলেবাসে অনেক বিকৃতি করা হয়েছে। ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার নাম পেতে ইতিহাস বইয়ে অনেক পাতা ওল্টাতে হবে। তাই আগের সরকার আর কিছুদিন থাকলে ঐতিহ্য সব হারিয়ে যেত। সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে।”
    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থাকে দূষিত করেছে তৃণমূল। স্কুলের সিলেবাসে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা ছিল না। অথচ জেলে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থা আর কিছুদিন চললে রাজ্যের সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত। শুভেন্দু বলেন, “বিগত সরকারের আমলে আকাশকে আসমান, মা’কে আম্মা করে দেওয়া হয়েছিল। আগের সরকার পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বিভাজনের স্পষ্ট ছাপ রেখেছে। এখন শিক্ষায় সংস্কার প্রয়োজন। দেশপ্রেম ফেরাতে না পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।” তাঁর আরও সংযোজন, “বর্তমান সরকার পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। সরকার মনে করে যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা।” তাঁর কথায়, “বাংলা নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান। আর এই ভূমিতে দাঁড়িয়ে বলবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! চলবে না। পহেলগাঁও হলে মিছিল হয় না। আর অপারেশন সিঁদুর হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলি আমাদের সহ্য করতে হবে? যাদবপুরের দেওয়ালে কেন লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন? লিখুন না ফ্রি পিওকে। সমর্থন করব।” এরপর ফের তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, “ক্লাস ফাইভ থেকে এইটের মুসলমান পড়ুয়ারা স্কলারশিপ পেত। কিন্তু হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রিস্টান পড়ুয়ারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার কোনও তফাৎ ছিল না। বাংলার মানুষ সঠিক সময়ে পরিবর্তন করে সুযোগ দিয়েছেন আমাদের। এখন শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে। বাংলার মানুষ কংগ্রেসকে সময় দিয়েছেন, বামফ্রন্টকে সময় দিয়েছেন আর গত ১৫ বছর সময় দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে বলেই আজ আমরা বেঁচে গিয়েছি, পশ্চিমবঙ্গ বেঁচে গিয়েছে।”
            তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আগাগোড়া হিন্দুত্বের তাস খেলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। তাঁর এমন অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।অন্যদিকে, বামপন্থীদের অভিযোগ, বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলার মানুষের মনে ঘৃণার বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

১২ বছর পর পাকিস্তানে যাবেন মোদী? ইসলামাবাদে SCO সম্মেলনে আমন্ত্রণ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে সঠিক সময়ে, বাম-তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর 

আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার
নিজস্ব প্রতিবেদন: “সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে। আর কিছুদিন চললে সংস্কার হারিয়ে যেত। শিক্ষাব্যবস্থাটাই ধ্বংস হয়ে যেত।” বৃহস্পতিবার গোলপার্কে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে বিগত বামফ্রন্ট সরকার ও তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধরে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছিল, বাম আমলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আর বিগত তৃণমূল সরকারের শেষ ১০ বছরেও বাংলায় বেহাল শিক্ষা— পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যেখানে সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।” তিনি অভিযোগ করেন, স্কুলের সিলেবাসে তোষণের রাজনীতি, ভাষার বিকৃতি এবং পড়ুয়াদের মনে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল বিগত ১০ বছরে।
     শুভেন্দু আরও বলেন, “কমিউনিস্ট আমলে শুধু ইংরাজি ভাষাতেই তালাচাবি পড়েনি, কম্পিউটার শিক্ষার উপরও বাধা দেওয়া হয়েছিল। আর তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের মধ্যে গত ১০ বছরে সিলেবাসে অনেক বিকৃতি করা হয়েছে। ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরার নাম পেতে ইতিহাস বইয়ে অনেক পাতা ওল্টাতে হবে। তাই আগের সরকার আর কিছুদিন থাকলে ঐতিহ্য সব হারিয়ে যেত। সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে।”
    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থাকে দূষিত করেছে তৃণমূল। স্কুলের সিলেবাসে সিঙ্গুর থেকে টাটাকে তাড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মবলিদানের কথা ছিল না। অথচ জেলে যাওয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থা আর কিছুদিন চললে রাজ্যের সংস্কার, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, জাতীয়তাবাদ হারিয়ে যেত। শুভেন্দু বলেন, “বিগত সরকারের আমলে আকাশকে আসমান, মা’কে আম্মা করে দেওয়া হয়েছিল। আগের সরকার পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে বিভাজনের স্পষ্ট ছাপ রেখেছে। এখন শিক্ষায় সংস্কার প্রয়োজন। দেশপ্রেম ফেরাতে না পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।” তাঁর আরও সংযোজন, “বর্তমান সরকার পুঁথিগত বিদ্যায় বিশ্বাস করে না। সরকার মনে করে যে শিক্ষার মধ্যে দিয়ে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে সেই শিক্ষাই সঠিক শিক্ষা।” তাঁর কথায়, “বাংলা নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের ভূমি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান। আর এই ভূমিতে দাঁড়িয়ে বলবেন কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! চলবে না। পহেলগাঁও হলে মিছিল হয় না। আর অপারেশন সিঁদুর হলে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করুন। এগুলি আমাদের সহ্য করতে হবে? যাদবপুরের দেওয়ালে কেন লিখবেন ফ্রি প্যালেস্টাইন? লিখুন না ফ্রি পিওকে। সমর্থন করব।” এরপর ফের তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, “ক্লাস ফাইভ থেকে এইটের মুসলমান পড়ুয়ারা স্কলারশিপ পেত। কিন্তু হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রিস্টান পড়ুয়ারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার কোনও তফাৎ ছিল না। বাংলার মানুষ সঠিক সময়ে পরিবর্তন করে সুযোগ দিয়েছেন আমাদের। এখন শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে। বাংলার মানুষ কংগ্রেসকে সময় দিয়েছেন, বামফ্রন্টকে সময় দিয়েছেন আর গত ১৫ বছর সময় দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। এবার সঠিক সময়ে রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে বলেই আজ আমরা বেঁচে গিয়েছি, পশ্চিমবঙ্গ বেঁচে গিয়েছে।”
            তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আগাগোড়া হিন্দুত্বের তাস খেলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। তাঁর এমন অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের।অন্যদিকে, বামপন্থীদের অভিযোগ, বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলার মানুষের মনে ঘৃণার বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।