নিউজ ডেস্ক : যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন আর তা মুছে দেওয়ার পাল্টা লড়াই কি চলতেই থাকবে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনীতির অন্দরে। একদিকে যখন বামপন্থীরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী স্লোগান লিখে চলেছেন দেওয়াল জুড়ে, তখন এবিভিপি সেই স্লোগান মুছে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ আগস্ট রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি বৈঠককে কেন্দ্র করে। ওইদিনই বামপন্থী ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল আরএসএসের ছাত্রসংগঠন এবিভিপির বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল রাজ্যের রাজনীতি। মিছিল পাল্টা মিছিলে সরগরম হয় কলকাতা। যার রেশ এসে পড়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখনের ওপরেও। সাদা রং করে দেওয়া হয় একাধিক গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখনে। পাল্টা এসএফআইয়ের সদস্যরা সেই সাদা রঙের ওপর আবার স্লোগান লিখে দেন। এই ঘটনার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যাদবপুরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন চলবে না, কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরে আসরে নামে পুলিশ ও প্রশাসন। মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে নতুন করে লেখা স্লোগান মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্যের আঁকা ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের একটি ছবিও ওই সময় মুছে দেওয়া হয়। যাকে কেন্দ্র করে নিন্দার ঝড় ওঠে নানা মহলে। তবে ঘটনার রেশ এখানেই থেমে থাকেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার আবার সাদা রঙের ওপর লেখা হয়েছে স্লোগান। যেখানে হিটলার-মুসোলিনির সঙ্গে একযোগে টার্গেট করা হয়েছে আরএসএসকে। ‘যাদবপুরের রাষ্ট্রবাদী ছাত্ররা’ নাম দেওয়া একটি ব্যানারে অটলবিহারী বাজপেয়ীর একটি পুরনো উদ্ধৃতিও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। যাতে লেখা আছে, “আরবদের যে ভূমি ইজরায়েল দখল করে রেখেছে, সেই ভূমি তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য ও বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” এর পরই পাল্টা আসরে নামে এবিভিপি। বৃহস্পতিবার ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ করে তারা ক্যাম্পাস জুড়ে বিদ্যাসাগর সহ একাধিক মনীষীর ছবি টাঙ্গায়।
গত মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য আবেদন জানিয়েছিলেন, যেখানে সেখানে দেওয়াল না লিখতে। তিনি বলেছিলেন, ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে লেখালিখি করুন পড়ুয়ারা। তাঁর এই আবেদনের পরই মধ্যরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দেওয়াল লিখন মুছে দেয় পুলিশ ও পুরকর্মীরা। তবে উপাচার্যের দাবি, পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে তাঁর অনুমতি নেয়নি।
নতুন গতি 




















