৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়নি এখনও, বিল পাশে কেন্দ্র সরকারের ফন্দি বিশেষ অধিবেশনের

নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা ভাঙিয়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। ফলে বাদল অধিবেশনে সম্ভব হয়নি সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করার। এই অবস্থায় ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করা হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন৷ কিন্তু বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি এখনও। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি কেন্দ্র সরকারের একটা ফন্দি। এরা অপেক্ষায় আছে বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করার। ভিতরে ভিতরে প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করার খেলা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার।
বাদল অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর দু’সপ্তাহ কেটে গিয়েছে৷ কিন্তু সরকারিভাবে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি৷ তার ফলে দিল্লির রাজনীতিতে জোর জল্পনা, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল পাশ করতে এখনও অঙ্ক কষছে কেন্দ্র সরকার। অঙ্ক মিললেই তারা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকবে। সেই সম্ভাবনা নিয়েই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
বিরোধীরা জানে এই বিজেপি সরকারকে বিশ্বাস নেই। উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য যে কোনও অনৈতিক কাজ তারা করতে পারে। রাজ্যসভার দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এই মর্মে চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। জানতে চেয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনাচিন্তা। কেন এখনও বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি সে কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন খাড়গে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে বিজেপি। সংখ্যা পেয়ে গেলেই পরের দিন বিশেষ অধিবেশন ডাকবে। অন্তত দিন দুয়েকের অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করিয়ে নেবে। আর সেই কারণেই সরকারিভাবে বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি৷ এটা বিজেপির পূর্ব পরিকল্পনা। রাজনৈতিক মহলে এমনও জল্পনা চলছে যে, সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল করার পরই বিজেপি ঝাঁপাতে পারে বিল পাশের লক্ষ্যে৷ বিজেপি গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল। বাদল অধিবেশনেও কার্যত ব্যর্থ৷ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার ফলেই বারবার তাদের পিছু হটতে হচ্ছে। এখনও যেহেতু বাদল অধিবেশন সরকারিভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি, সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বিল পাশ করানোর। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। ডিএমকে ও শরদ পাওয়ারের এনসিপির উপর নির্ভর করে আছে বিজেপির ভাগ্য। এই অবস্থায় শাসক শিবির শেষ চেষ্টা করতে পারে। সেই উদ্দেশে এখনও তারা বিরোধী শিবিরের সদস্য ডিএমকে এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপির মতো দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তাদের রাজি করাতে। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, সরকার যদি আসন পুনবির্ন্যাস ইস্যুতে ডিএমকে এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি শিবিরের দাবি মানে, তবে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। ডিএমকে ও শরদের এনসিপি সাংসদরা ক্ষেত্রে সরাসরি ভোটদানে বিরত থাকবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে লোকসভায় ভোটাভুটির সময়ে গরহাজির থাকতে পারে সরকারকে পরোক্ষে সুবিধা করে দিতে।
বর্তমানে হিসেব বলছে, তৃণমূল ভাঙিয়ে ২০ ও উদ্ধব শিবসেনার ৬ নিয়ে মোট ২৬ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগদান করেছে। লোকসভায় শাসক শিবিরের পক্ষে রয়েছে ৩২৯ জন সাংসদের সমর্থন। লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ৩৬০ জনের সমর্থন৷ ডিএমকে-র ২২ ও শরদ পাওয়ারের দলের ৮ জন সাংসদের সরাসরি সমর্থন পেলে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পজিশনে পৌঁছে যেতে পারত৷ সেক্ষেত্রে একজন সাংসদকে ম্যানেজ করতে পারলেই বিজেপি কিস্তিমাত করে দিত। তবে এনসিপিআই সাংসদদের অবস্থান চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। তার ফলে সেখানে নতুন করে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লোকসভায় বিজেপির সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে রাজ্যসভায় তাদের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো৷ দলত্যাগী তিন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব বিজেপিতে যোগদান করেছেন। ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা হয়েছে ১১৭, এনডিএ শিবিরের মোট সাংসদ ১৫৫৷ ২৪৫ আসন বিশিষ্ট রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ১৬৪ জনের সমর্থন৷ ফলে এক্ষেত্রেও ন’জন সাংসদের সমর্থন কম রয়েছে।
সর্বাধিক পাঠিত

“প্রে ফর নেপাল” চুঁচুড়ায় মানবতার বার্তা নারী শক্তি’র

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়নি এখনও, বিল পাশে কেন্দ্র সরকারের ফন্দি বিশেষ অধিবেশনের

আপডেট : ৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা ভাঙিয়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। ফলে বাদল অধিবেশনে সম্ভব হয়নি সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করার। এই অবস্থায় ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করা হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন৷ কিন্তু বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি এখনও। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি কেন্দ্র সরকারের একটা ফন্দি। এরা অপেক্ষায় আছে বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করার। ভিতরে ভিতরে প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করার খেলা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার।
বাদল অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর দু’সপ্তাহ কেটে গিয়েছে৷ কিন্তু সরকারিভাবে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি৷ তার ফলে দিল্লির রাজনীতিতে জোর জল্পনা, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল পাশ করতে এখনও অঙ্ক কষছে কেন্দ্র সরকার। অঙ্ক মিললেই তারা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকবে। সেই সম্ভাবনা নিয়েই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
বিরোধীরা জানে এই বিজেপি সরকারকে বিশ্বাস নেই। উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য যে কোনও অনৈতিক কাজ তারা করতে পারে। রাজ্যসভার দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এই মর্মে চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। জানতে চেয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবনাচিন্তা। কেন এখনও বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি সে কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন খাড়গে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে বিজেপি। সংখ্যা পেয়ে গেলেই পরের দিন বিশেষ অধিবেশন ডাকবে। অন্তত দিন দুয়েকের অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করিয়ে নেবে। আর সেই কারণেই সরকারিভাবে বাদল অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি৷ এটা বিজেপির পূর্ব পরিকল্পনা। রাজনৈতিক মহলে এমনও জল্পনা চলছে যে, সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল করার পরই বিজেপি ঝাঁপাতে পারে বিল পাশের লক্ষ্যে৷ বিজেপি গ্রীষ্মকালীন অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল। বাদল অধিবেশনেও কার্যত ব্যর্থ৷ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার ফলেই বারবার তাদের পিছু হটতে হচ্ছে। এখনও যেহেতু বাদল অধিবেশন সরকারিভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি, সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে বিল পাশ করানোর। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই। ডিএমকে ও শরদ পাওয়ারের এনসিপির উপর নির্ভর করে আছে বিজেপির ভাগ্য। এই অবস্থায় শাসক শিবির শেষ চেষ্টা করতে পারে। সেই উদ্দেশে এখনও তারা বিরোধী শিবিরের সদস্য ডিএমকে এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপির মতো দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে তাদের রাজি করাতে। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, সরকার যদি আসন পুনবির্ন্যাস ইস্যুতে ডিএমকে এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপি শিবিরের দাবি মানে, তবে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। ডিএমকে ও শরদের এনসিপি সাংসদরা ক্ষেত্রে সরাসরি ভোটদানে বিরত থাকবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে লোকসভায় ভোটাভুটির সময়ে গরহাজির থাকতে পারে সরকারকে পরোক্ষে সুবিধা করে দিতে।
বর্তমানে হিসেব বলছে, তৃণমূল ভাঙিয়ে ২০ ও উদ্ধব শিবসেনার ৬ নিয়ে মোট ২৬ জন লোকসভা সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগদান করেছে। লোকসভায় শাসক শিবিরের পক্ষে রয়েছে ৩২৯ জন সাংসদের সমর্থন। লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ৩৬০ জনের সমর্থন৷ ডিএমকে-র ২২ ও শরদ পাওয়ারের দলের ৮ জন সাংসদের সরাসরি সমর্থন পেলে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পজিশনে পৌঁছে যেতে পারত৷ সেক্ষেত্রে একজন সাংসদকে ম্যানেজ করতে পারলেই বিজেপি কিস্তিমাত করে দিত। তবে এনসিপিআই সাংসদদের অবস্থান চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। তার ফলে সেখানে নতুন করে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লোকসভায় বিজেপির সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে রাজ্যসভায় তাদের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো৷ দলত্যাগী তিন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব বিজেপিতে যোগদান করেছেন। ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা হয়েছে ১১৭, এনডিএ শিবিরের মোট সাংসদ ১৫৫৷ ২৪৫ আসন বিশিষ্ট রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজন ১৬৪ জনের সমর্থন৷ ফলে এক্ষেত্রেও ন’জন সাংসদের সমর্থন কম রয়েছে।