২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হুগলির পাণ্ডুয়ায়

নিজস্ব সংবাদদাতা : ফের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হুগলির পাণ্ডুয়ায়। মোবাইল টাওয়ারের তারে হাত দিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট (Electric Shocked) হয়ে মৃত্যু এক যুবকের। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম রাজু পাত্র (২৫)। আজ সকালে স্থানীয়রা দেখতে পায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে স্থানীয় ক্লাবের পাশে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। কিন্তু মৃতদেহ তুলতে গেলে বাধার মুখে পড়ে তারা।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডুয়ার হরাল দাসপুরের তালারপার গ্রামের রাজু পাত্র এক সময় সুরাটে জুয়েলারির কাজ করত। বর্তমানে সে পান্ডুয়ায় (Pandua) গ্রামের বাড়িতেই ছিল। রাতে স্থানীয় বিবেকানন্দ যুব সংঘ ক্লাবে ঘুমাতে যেত। গতকাল বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার পর ক্লাবে ঘুমাতে যায় সে। ক্লাবের পাশেই রয়েছে একটি মোবাইল টাওয়ার (Mobile Tower)। পাঁচিল ঘেরা টাওয়ারের আর্থিং করা আছে ক্লাবের পাশেই। মনে করা হচ্ছে, গতকাল রাতে বৃষ্টিতে সেই আর্থিং ফেল করে শর্টসার্কিট হয়ে যায় আর্থিং এর লোহার তারে। অসবাধানতাবশত তাতে হাত দেওয়াতেই বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয় রাজু। খবর পেয়ে পান্ডুয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারে গেলে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পরে।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মোবাইল টাওয়ারের ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। মাঝেমধ্যেই শর্টসার্কিট হয়ে থাকে। টাওয়ার সংস্থাকে বললেও শোনে না। একটি তরতাজা যুবকের প্রাণ চলে গেল ওদের জন্য। আজ এই ঘটনার পরও ওদের হেলদোল নেই। গ্রামবাসী দেবজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ”রাজুরা খুব গরীব। বাড়িতে ঘুমানোর জায়গা না থাকায় ক্লাবে ঘুমাতো। প্রতিদিন আমরা রাত ন’টা-দশটা পর্যন্ত ক্লাবে তাস, ক্যারাম খেলি। মুর্শিদাবাদের কয়েকজন রাজমিস্ত্রী রাজুর সঙ্গে ক্লাবে রাতে থাকত। পরশুদিন রাজমিস্ত্রীরা মুর্শিদাবাদ চলে যায়। গতকাল রাজু একাই ছিল ক্লাবে। টাওয়ারের আর্থিং-এ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমরা মৃতদেহ তুলতে দিইনি। টাওয়ার সংস্থা আসুক আমাদের সঙ্গে কথা বলুক তারপর যা হবার হবে।”মৃত যুবকের পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। মৃতদের দাদা সহদেব পাত্র বলেন, ”ভাই খাওয়ার পর ক্লাবে শুতে যায়। আমরা কিছুই জানতাম না। আজ সকালে কয়েকজন হাঁটতে বেরিয়ে দেখতে পায়। তারপর আমরা জানতে পারি।” পরিবার ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পান্ডুয়া থানার (Pandua Police) পুলিশ। সম্প্রতি হাওড়া উলুবেড়িয়া কলকাতার মত জায়গায় বেশ কয়েকজনের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবার পান্ডুয়াতে।

খাড়গের বাসভবনের সামনে বিজেপির বিক্ষোভ, আটক করা হয় প্রায় ২০০০ জনকে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ফের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হুগলির পাণ্ডুয়ায়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, রবিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা : ফের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল হুগলির পাণ্ডুয়ায়। মোবাইল টাওয়ারের তারে হাত দিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট (Electric Shocked) হয়ে মৃত্যু এক যুবকের। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম রাজু পাত্র (২৫)। আজ সকালে স্থানীয়রা দেখতে পায় মৃতদেহ পড়ে রয়েছে স্থানীয় ক্লাবের পাশে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ। কিন্তু মৃতদেহ তুলতে গেলে বাধার মুখে পড়ে তারা।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডুয়ার হরাল দাসপুরের তালারপার গ্রামের রাজু পাত্র এক সময় সুরাটে জুয়েলারির কাজ করত। বর্তমানে সে পান্ডুয়ায় (Pandua) গ্রামের বাড়িতেই ছিল। রাতে স্থানীয় বিবেকানন্দ যুব সংঘ ক্লাবে ঘুমাতে যেত। গতকাল বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার পর ক্লাবে ঘুমাতে যায় সে। ক্লাবের পাশেই রয়েছে একটি মোবাইল টাওয়ার (Mobile Tower)। পাঁচিল ঘেরা টাওয়ারের আর্থিং করা আছে ক্লাবের পাশেই। মনে করা হচ্ছে, গতকাল রাতে বৃষ্টিতে সেই আর্থিং ফেল করে শর্টসার্কিট হয়ে যায় আর্থিং এর লোহার তারে। অসবাধানতাবশত তাতে হাত দেওয়াতেই বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয় রাজু। খবর পেয়ে পান্ডুয়া থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারে গেলে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পরে।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মোবাইল টাওয়ারের ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। মাঝেমধ্যেই শর্টসার্কিট হয়ে থাকে। টাওয়ার সংস্থাকে বললেও শোনে না। একটি তরতাজা যুবকের প্রাণ চলে গেল ওদের জন্য। আজ এই ঘটনার পরও ওদের হেলদোল নেই। গ্রামবাসী দেবজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ”রাজুরা খুব গরীব। বাড়িতে ঘুমানোর জায়গা না থাকায় ক্লাবে ঘুমাতো। প্রতিদিন আমরা রাত ন’টা-দশটা পর্যন্ত ক্লাবে তাস, ক্যারাম খেলি। মুর্শিদাবাদের কয়েকজন রাজমিস্ত্রী রাজুর সঙ্গে ক্লাবে রাতে থাকত। পরশুদিন রাজমিস্ত্রীরা মুর্শিদাবাদ চলে যায়। গতকাল রাজু একাই ছিল ক্লাবে। টাওয়ারের আর্থিং-এ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। আমরা মৃতদেহ তুলতে দিইনি। টাওয়ার সংস্থা আসুক আমাদের সঙ্গে কথা বলুক তারপর যা হবার হবে।”মৃত যুবকের পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। মৃতদের দাদা সহদেব পাত্র বলেন, ”ভাই খাওয়ার পর ক্লাবে শুতে যায়। আমরা কিছুই জানতাম না। আজ সকালে কয়েকজন হাঁটতে বেরিয়ে দেখতে পায়। তারপর আমরা জানতে পারি।” পরিবার ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পান্ডুয়া থানার (Pandua Police) পুলিশ। সম্প্রতি হাওড়া উলুবেড়িয়া কলকাতার মত জায়গায় বেশ কয়েকজনের বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবার পান্ডুয়াতে।