সালটা ১৫৮০, হয়তো সেই সময় সবেমাত্র ভারতবর্ষে পদার্পণ হয়েছে ব্রিটিশদের। এই সালেই হুগলির আকনা গ্রামের ঘোষ বংশের সপ্তদশ বংশধর সদানন্দ ঘোষ বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন বসিরহাটের ট্যাট প্রাণীবাসী রায়চৌধুরী বাড়ির কন্যার সঙ্গে। ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে যখন জব চার্ণকের কলকাতা ছিল ক্যালকাটা, যার বয়স ছিল মাত্র ১০বছর, বসিরহাটের শিকড়া কুলিনগ্রামে সেই সালেই গোল পাতায় ছাওয়া মাটির আটচালায় দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন ঘোষ বংশেরই বংশধর দেবিদাস ঘোষ। পরবর্তীতে ১৮১০ থেকে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কালীপ্রসাদ ঘোষ পাঁচ খিলান যুক্ত পাকা দুর্গা দালান নির্মাণ করেন, তারপর থেকে সেই দুর্গাদালানেই দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে যাচ্ছে। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দ এই ঘোষ বংশেই পিতা আনন্দমোহন ঘোষ ও মাতা হেমাঙ্গিনী দেবীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন রাখালদাস ঘোষ, যিনি পরবর্তীতে ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মানসপুত্র ও স্বামী বিবেকানন্দের গুরুভাই স্বামী ব্রহ্মানন্দ হিসেবে পরিচিত হন। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, বালক রাখাল দুর্গাদালানের দেবী দুর্গার রূপ দেখে ধ্যানস্থ হতেন। অনতিদূরে বোধন তলায় সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি মেতে উঠতেন পূজা পূজা খেলায় এবং বোধনতলার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তিনি শ্যামাসংগীত গাইতেন। পরবর্তীকালে শিকড়া কুলিন গ্রামে এসে বোধন তলায় মাতা হেমাঙ্গিনী দেবীকে ভূমিষ্ঠ প্রণাম জানিয়েছিলেন।পরবর্তীকালে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে স্বামী ব্রহ্মানন্দের পূণ্য জন্মভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় শিকড়া কুলিন গ্রাম রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন।
স্বামী ব্রহ্মানন্দ তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, “দেখিস এই পুজো যেন বন্ধ না হয়।” তার কথা মেনেই এই বংশের উত্তরপুরুষরা এখনো পর্যন্ত সমস্ত রকম প্রথা মেনে এই দুর্গাপুজোর আয়োজন করে থাকেন। এবছর৩২৭ বছরে পদার্পণ করলো। প্রতিবছর পালা করে এই ঘোষ বংশের দুর্গাপুজো হয়ে আসছে বংশপরম্প এই বছর ঘোষ পরিবারের বড় শরীক।রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই বংশের সদস্যরা পুজোর সময় ফিরে আসেন বাড়িতে। মহালয়ার পর প্রতিপদে পুজোর সূচনা হিসেবে বসে দেবীঘট। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন। মহাসাড়ম্বরে বংশের প্রথা এনে হয় মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর পুজো। মহাষ্টমীর দিন ভক্তদের জন্য থাকে লুচি ভোগের আয়োজন। মহাদশমীতে দুর্গাপুজোর সমস্ত রকম রীতি মেনে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর কাহার সম্প্রদায়ের বেহারাদের কাঁধে চেপে মা দুর্গার কৈলাস যাত্রা শুরু হয়। দেবীর মৃন্ময়ী রূপকে স্থানীয় একটি পুণ্যপুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রাচীন ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে সমস্ত রকম রীতিকে পাথেয় করে স্বামী ব্রহ্মানন্দের এই পুজোকে এখনো ঐতিহ্যবাহী করে রেখেছে সমগ্র শিকড়া কুলিন গ্রাম।
নতুন গতি 
























