১৪ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
১৪ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

“১৫ আগষ্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙ্গালীদের” ভাইরাল ভিডিওতে তৃণমূল নেতার হুমকি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: “১৫ আগষ্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙ্গালীদের, নাহলে ঘটবে ২০০২ সালে সিপিআইএম পার্টি অফিসে হামলার পুনরাবৃত্তি” সুকদেব রায় নামক এক তৃণমূল নেতার ভাইরাল হুমকি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধুপগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে বিজেপি ও সিপিআইএম, দুই পক্ষের তরফ থেকেই। এখানেই শেষ নয়, একদল যুবক ধুপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুজু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বক্তব্য, ভাইরাল তৃণমূল নেতা ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ।
এই প্রসঙ্গে সিপিআইএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের বক্তব্য, “এই ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উস্কানি নয়, এর দ্বারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে। বাংলাকে বিভক্ত করার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাকে ভাগ করার কোনও চক্রান্ত হলে কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তাঁর সংযোজন, “বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে সিপিআইএম।”
সিপিআইএম আরো বলেছে, “সুকদেব রায়ের বক্তব্যের ধরন অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর সঙ্গে কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত।” অন্যদিকে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মাধবচন্দ্র রায় বলেছেন, “সুকদেব রায় এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট এবং বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যের পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।” যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুকদেব রায়ের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বলে রাখা ভালো, ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট কেএলও জঙ্গিরা ধূপগুড়িতে সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে জঙ্গিদের হামলা চালিয়েছিল, যাতে মৃত্যু হয়েছিল একাধিক। সেই ঘটনার স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি ধূপগুড়ির সিপিআইএম। দলীয় কার্যালয়ের অন্দরে থাকা স্টিলের আলমারিতে এখনও রয়েছে গুলির চিহ্ন। প্রায় ২৪ বছর পর ফের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কোনও রাজনৈতিক নেতার এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আলীনগরে মহামায়া পূজোয় উৎসব

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

“১৫ আগষ্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙ্গালীদের” ভাইরাল ভিডিওতে তৃণমূল নেতার হুমকি

আপডেট : ১৩ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: “১৫ আগষ্টের মধ্যে উত্তরবঙ্গ ছাড়তে হবে বাঙ্গালীদের, নাহলে ঘটবে ২০০২ সালে সিপিআইএম পার্টি অফিসে হামলার পুনরাবৃত্তি” সুকদেব রায় নামক এক তৃণমূল নেতার ভাইরাল হুমকি ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধুপগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে বিজেপি ও সিপিআইএম, দুই পক্ষের তরফ থেকেই। এখানেই শেষ নয়, একদল যুবক ধুপগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেছেন। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুজু করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বক্তব্য, ভাইরাল তৃণমূল নেতা ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায়ের ঘনিষ্ঠ।
এই প্রসঙ্গে সিপিআইএমের ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদারের বক্তব্য, “এই ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উস্কানি নয়, এর দ্বারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা হয়েছে। বাংলাকে বিভক্ত করার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাকে ভাগ করার কোনও চক্রান্ত হলে কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তাঁর সংযোজন, “বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিলে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবে সিপিআইএম।”
সিপিআইএম আরো বলেছে, “সুকদেব রায়ের বক্তব্যের ধরন অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর সঙ্গে কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা প্রশাসনের তদন্ত করে দেখা উচিত।” অন্যদিকে বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক মাধবচন্দ্র রায় বলেছেন, “সুকদেব রায় এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি বাংলার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট এবং বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যের পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।” যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুকদেব রায়ের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
বলে রাখা ভালো, ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট কেএলও জঙ্গিরা ধূপগুড়িতে সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে জঙ্গিদের হামলা চালিয়েছিল, যাতে মৃত্যু হয়েছিল একাধিক। সেই ঘটনার স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি ধূপগুড়ির সিপিআইএম। দলীয় কার্যালয়ের অন্দরে থাকা স্টিলের আলমারিতে এখনও রয়েছে গুলির চিহ্ন। প্রায় ২৪ বছর পর ফের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কোনও রাজনৈতিক নেতার এমন উস্কানিমূলক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।