১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

৩০৭ বছরের পুজো, চামুণ্ডা মূর্তিতে ঐতিহ্য! স্বপ্নাদেশে বন্ধ বলি

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
  • 16
অভিজিৎ হাজরা, আমতা, হাওড়া: জমিদারি নেই, জৌলুসও কমেছে। তবু ৩০৭ বছর ধরে ঐতিহ্যের আলো জ্বালিয়ে রেখেছে হাওড়ার আমতা-২ ব্লকের অমরাগড়ী গ্রামের রায় পরিবারের দুর্গোৎসব। একচালার চামুণ্ডা মূর্তি, স্বপ্নাদেশে বলি বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির—এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ।
বাংলার ১১২৬ বঙ্গাব্দের ১৫ বৈশাখ প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী গজলক্ষ্মী মাতা এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বর্ধমানের মহারাজের অধীনস্থ জমিদার শান্তি রায়। কথিত আছে, বাণিজ্যে বেরিয়ে অমরাগড়ীতে নৌকা নোঙর করার রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এখানেই বসবাস শুরু করেন। সেই থেকে দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব চলে আসছে।
এস্টেটের বর্তমান সভাপতি অসিত কুমার রায়, সম্পাদক সৌরভ রায় এবং কোষাধ্যক্ষ দিব্যেন্দু রায়-সহ ১৪ জন সদস্য পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো। পঞ্চমীতে পরিবারের মহিলারা এক থেকে দেড় হাজার নারকেল নাড়ু তৈরি করেন। সপ্তমীতে পালকির মতো দুলিয়ে নবপত্রিকা আনা হয় মণ্ডপে।
প্রায় ১৮৪ বছর আগে বাঘের আক্রমণে এক কামারের হাতে বাঘের মৃত্যু এবং পরে দেবীর স্বপ্নাদেশের কাহিনি ঘিরে এই পুজোয় বলি বন্ধ হয় বলে জনশ্রুতি। দশমীতে দুপুর ১২টার পর সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জনও দীর্ঘদিনের রীতি।
গ্রামের মুসলিম রাজমিস্ত্রিরা মন্দির সংস্কার ও রং করার পাশাপাশি বিসর্জনেও সহযোগিতা করেন। তবে ডিভিসির ছাড়া জলে চাষের ক্ষতি হওয়ায় এবার আর্থিক সংকটে পরিবার। সৌরভ রায় জানান, পুজো ও মন্দির সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

বাঘের আতঙ্ক রুখতে কুলতলিতে ১৯০ সৌর পথবাতি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

৩০৭ বছরের পুজো, চামুণ্ডা মূর্তিতে ঐতিহ্য! স্বপ্নাদেশে বন্ধ বলি

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
অভিজিৎ হাজরা, আমতা, হাওড়া: জমিদারি নেই, জৌলুসও কমেছে। তবু ৩০৭ বছর ধরে ঐতিহ্যের আলো জ্বালিয়ে রেখেছে হাওড়ার আমতা-২ ব্লকের অমরাগড়ী গ্রামের রায় পরিবারের দুর্গোৎসব। একচালার চামুণ্ডা মূর্তি, স্বপ্নাদেশে বলি বন্ধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির—এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ।
বাংলার ১১২৬ বঙ্গাব্দের ১৫ বৈশাখ প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী গজলক্ষ্মী মাতা এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বর্ধমানের মহারাজের অধীনস্থ জমিদার শান্তি রায়। কথিত আছে, বাণিজ্যে বেরিয়ে অমরাগড়ীতে নৌকা নোঙর করার রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এখানেই বসবাস শুরু করেন। সেই থেকে দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব চলে আসছে।
এস্টেটের বর্তমান সভাপতি অসিত কুমার রায়, সম্পাদক সৌরভ রায় এবং কোষাধ্যক্ষ দিব্যেন্দু রায়-সহ ১৪ জন সদস্য পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো। পঞ্চমীতে পরিবারের মহিলারা এক থেকে দেড় হাজার নারকেল নাড়ু তৈরি করেন। সপ্তমীতে পালকির মতো দুলিয়ে নবপত্রিকা আনা হয় মণ্ডপে।
প্রায় ১৮৪ বছর আগে বাঘের আক্রমণে এক কামারের হাতে বাঘের মৃত্যু এবং পরে দেবীর স্বপ্নাদেশের কাহিনি ঘিরে এই পুজোয় বলি বন্ধ হয় বলে জনশ্রুতি। দশমীতে দুপুর ১২টার পর সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জনও দীর্ঘদিনের রীতি।
গ্রামের মুসলিম রাজমিস্ত্রিরা মন্দির সংস্কার ও রং করার পাশাপাশি বিসর্জনেও সহযোগিতা করেন। তবে ডিভিসির ছাড়া জলে চাষের ক্ষতি হওয়ায় এবার আর্থিক সংকটে পরিবার। সৌরভ রায় জানান, পুজো ও মন্দির সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।