৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পঞ্চায়েত দখলের দিনেই ধৃত মমতার তৃণমূলত্যাগী তিন সদস্য! রঘুনাথগঞ্জে পদ ধরে রাখলেন সেই ঋতব্রতপন্থীই

বিধানসভা ভোটের পরে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা হচ্ছে। এ বার রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সম্মতিনগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন ঘিরে রচিত হল আর এক টানটান চিত্রনাট্য। দলবদল, গ্রেফতারি এবং তার ঠিক পরপরই ভোটাভুটিতে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিরোধীদের বাদানুবাদ— সব মিলিয়ে শুক্রবার দিনভর উত্তপ্ত রইল সম্মতিনগর। অনাস্থা ভোটে অপসারিত হওয়া প্রাক্তন প্রধান মুর্তজা শেখ ওরফে টেম্পুই আবার নিজের পুরনো আসন ফিরে পেলেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। ২৪ আসনবিশিষ্ট সম্মতিনগর পঞ্চায়েতে গত কয়েক দিন ধরেই দুই গোষ্ঠী— তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী তথা আখরুজ্জামানের অনুগামীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই আখরুজ্জামান ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত, পঞ্চায়েত প্রধান মুর্তজার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে পদচ্যুত করে মমতাপন্থী তৃণমূলের গোষ্ঠী। নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য হয় শুক্রবার। তার দু’দিন আগে, বুধবার নাটক চরমে ওঠে। ওই দিন মমতাপন্থী তৃণমূলের ১২ জন সদস্য কলকাতায় গিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তার পরেই পঞ্চায়েতে ক্ষমতার হাতবদলের লড়াই নতুন মাত্রায় পৌঁছোয়।

আসল নাটকের সূচনা হয় শুক্রবার, নতুন প্রধান নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনে। কলকাতা থেকে ট্রেনে চেপে ফিরছিলেন সদ্য এনসিপিআই-তে যোগদানকারী ১২ জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধি। ঠিক সেই মুহূর্তে মোড়গ্রাম স্টেশনে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হলেন মহবুল শেখ, মাসুদ শেখ এবং মুনসুর শেখ। স্থানীয় সূত্রের খবর, হঠাৎ এই গ্রেফতারির খবরে বাকি বিরোধী সদস্যেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে বাকিরা পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগ।

বিরোধী শিবিরের অনুপস্থিতির সুযোগ ঋতব্রতপন্থীরা কাজে লাগায় বলে দাবি। আখরুজ্জামানের অনুগামী ১১ জন সদস্য দ্রুত পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত হন। বিরোধীরা না থাকায় একতরফা ভোটাভুটিতে অপসারিত মুর্তজাকেই পুনরায় পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে র্নির্বাচিত করা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। গ্রেফতারির নেপথ্যে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন মমতার তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগদানকারীরা। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানোর সময় ধৃত মহবুল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝপথে কোন অপরাধে পুলিশ আমাদের ধরল, তা বোধগম্য নয়। নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।’’ পুলিশের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পথ অবরোধ, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি এবং আবাস যোজনায় দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ছিল। পুরনো মামলার তদন্তের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বন্ধ পাঠশালা, মুখ শুকনো কাঞ্চনদের

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পঞ্চায়েত দখলের দিনেই ধৃত মমতার তৃণমূলত্যাগী তিন সদস্য! রঘুনাথগঞ্জে পদ ধরে রাখলেন সেই ঋতব্রতপন্থীই

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার

বিধানসভা ভোটের পরে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা হচ্ছে। এ বার রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের সম্মতিনগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন ঘিরে রচিত হল আর এক টানটান চিত্রনাট্য। দলবদল, গ্রেফতারি এবং তার ঠিক পরপরই ভোটাভুটিতে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া বিরোধীদের বাদানুবাদ— সব মিলিয়ে শুক্রবার দিনভর উত্তপ্ত রইল সম্মতিনগর। অনাস্থা ভোটে অপসারিত হওয়া প্রাক্তন প্রধান মুর্তজা শেখ ওরফে টেম্পুই আবার নিজের পুরনো আসন ফিরে পেলেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। ২৪ আসনবিশিষ্ট সম্মতিনগর পঞ্চায়েতে গত কয়েক দিন ধরেই দুই গোষ্ঠী— তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী তথা আখরুজ্জামানের অনুগামীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই দ্বন্দ্বের জেরেই আখরুজ্জামান ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত, পঞ্চায়েত প্রধান মুর্তজার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে পদচ্যুত করে মমতাপন্থী তৃণমূলের গোষ্ঠী। নতুন প্রধান নির্বাচনের দিন ধার্য হয় শুক্রবার। তার দু’দিন আগে, বুধবার নাটক চরমে ওঠে। ওই দিন মমতাপন্থী তৃণমূলের ১২ জন সদস্য কলকাতায় গিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের এনসিপিআই দলে যোগ দেন। তার পরেই পঞ্চায়েতে ক্ষমতার হাতবদলের লড়াই নতুন মাত্রায় পৌঁছোয়।

আসল নাটকের সূচনা হয় শুক্রবার, নতুন প্রধান নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনে। কলকাতা থেকে ট্রেনে চেপে ফিরছিলেন সদ্য এনসিপিআই-তে যোগদানকারী ১২ জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধি। ঠিক সেই মুহূর্তে মোড়গ্রাম স্টেশনে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হলেন মহবুল শেখ, মাসুদ শেখ এবং মুনসুর শেখ। স্থানীয় সূত্রের খবর, হঠাৎ এই গ্রেফতারির খবরে বাকি বিরোধী সদস্যেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে বাকিরা পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত হতে পারেননি বলে অভিযোগ।

বিরোধী শিবিরের অনুপস্থিতির সুযোগ ঋতব্রতপন্থীরা কাজে লাগায় বলে দাবি। আখরুজ্জামানের অনুগামী ১১ জন সদস্য দ্রুত পঞ্চায়েত ভবনে উপস্থিত হন। বিরোধীরা না থাকায় একতরফা ভোটাভুটিতে অপসারিত মুর্তজাকেই পুনরায় পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে র্নির্বাচিত করা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। গ্রেফতারির নেপথ্যে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছেন মমতার তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে যোগদানকারীরা। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানোর সময় ধৃত মহবুল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা সুশৃঙ্খল ভাবে বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝপথে কোন অপরাধে পুলিশ আমাদের ধরল, তা বোধগম্য নয়। নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।’’ পুলিশের দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পথ অবরোধ, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি এবং আবাস যোজনায় দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ ছিল। পুরনো মামলার তদন্তের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।