খান আরশাদ, নতুন গতি: বীরভূমের দুবরাজপুর বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে এবার নজরকাড়া ফলাফল সামনে এল। ঐতিহ্যগতভাবে সর্বসম্মত ও অরাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হলেও, এবারের নির্বাচন ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তৎপর ও টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্যানেলকে পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ সবকটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন বিরোধী প্যানেল।
অতীতে সাধারণত আলোচনার মাধ্যমে প্রবীণ আইনজীবীদের সভাপতি ও সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হলেও, এবার নির্বাচন কীভাবে হবে (হাত তুলে! নাকি ব্যালটের মাধ্যমে)—তা নিয়ে আগেই আইনজীবীদের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। অধিকাংশ আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় যে ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিকভাবে ভোট নেওয়া হবে।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই দুবরাজপুর আদালত চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা সভাপতি, স্থানীয় বিধায়ক এবং নবনিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)-সহ শাসকদলের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের আদালতে আগমনকে কেন্দ্র করে আবহ বেশ টানটান হয়ে ওঠে। তবে চরম উত্তেজনার মধ্যেও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫টি পদের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ পদটিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আসন—সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৮২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৪টি আসনেই তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মলয় মুখার্জি জানান, তড়িঘড়ি করে নির্বাচন করার যে অভিযোগ শাসকদলের তরফ থেকে তোলা হয়েছিল, তা ভিত্তিহীন। কারণ তাদের তরফের সদস্যদের সম্মতিতেই এই সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছিল। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, অতীতে যেভাবে তৎকালীন বিধায়ক বিজয় বাগদী সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য নিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের উন্নয়ন হয়েছে, আগামী দিনেও দলমত নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুবরাজপুর বারের উন্নয়নে কাজ করবেন।
নতুন গতি 

























