খান আরশাদ : বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ল। মঙ্গলবার জেলা পরিষদের সদস্য নবগোপাল বাউড়ীর নেতৃত্বে ১৯ জন জেলা পরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর-সম্বলিত অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি জেলাশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হল। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কাজল শেখ। জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে ওই পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রায় তিন বছর পর তাঁর বিরুদ্ধেই অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যে সরকার বদলের পর এযাবৎ পর্যন্ত সভাধিপতিকে জেলা পরিষদে বসতে দেখা যায়নি। এর ফলে জেলার একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, এর আগেও বীরভূম জেলা বিজেপি নেতৃত্ব, বিশেষ করে জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব কুমার সাহা, জেলা পরিষদের কাজকর্ম ও উন্নয়ন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপন করেছিলেন তাঁরা। জেলার দোর্দন্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা হিসেবে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখ বরাবরই শিরোনামে থেকেছেন। পট পরিবর্তনের পর অনুব্রত মণ্ডল ওর্ফে কেষ্ট ও ফায়েজুল হক ওর্ফে কাজল উভয়েই ঋতব্রত তৃণমূল গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা জেলা পরিষদ সভাধিপতি পদে টিকে থাকতেই ঋতব্রত তৃণমূল গোষ্ঠীতে যোগদান করেন কাজল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন তাকে সরতে হচ্ছে এটাই উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন অনুব্রত মণ্ডল ঋতব্রত তৃণমূল গোষ্ঠীর সভাপতি হওয়ার পরপরই কাজল শেখের পতনের শুরু হয়ে গেছে। এর আগে অনুব্রত মণ্ডল চেয়েছিলেন নারাণ হালদার জেলা পরিষদ সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করুন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ ও দলীয় সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই অনাস্থা প্রস্তাব নতুন তাৎপর্য বহন করছে বলেও অভিমত রাজনৈতিক মহলের। এখন নজর জেলা প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অনাস্থা প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার দিকে। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হলে বীরভূম জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এই অনাস্থা বিষয়ে কাজল শেখের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নতুন গতি 
























