ককরোচ জনতা পার্টির এক ছাত্র-কর্মীর বাবাকে মারধরের অভিযোগে ফের উত্তাল দিল্লি। অভিযুক্ত নিজেকে ‘কট্টর হিন্দু’ ও গো-রক্ষক হিসেবে পরিচয় দেওয়া স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে সিজেপি সমর্থকেরা দফায় দফায় দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
শুক্রবার সকাল থেকে চলে সিজেপির থানা ঘেরাও আন্দোলন। সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে দলের কর্মী-সমর্থকেরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিক্ষোভে যোগ দেন লোকসভার সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং পপ্পু যাদবের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। সিজেপি-র অভিযোগ, আমাদেরই সক্রিয় কর্মী নিশু আজাদের বাবাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ এই ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করার পরও দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। রাজনৈতিক প্রভাবেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সিজেপির। এদিন বিক্ষোভকারীরা দাবি জানান, অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। সিজেপির দাবি ওই ছাত্রের বাবার উপর প্রাণঘাতী হামলা করা হয়েছে। এমনভাবেই আক্রমণ করা হয়েছে যে, মাথার খুলি ফেটে গিয়েছে। তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা বলে সিজেপির দাবি। যদিও দিল্লি পুলিশ এই মর্মে জানিয়েছে, সিজেপির ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ছাত্রের বাবার মাথার খুলি ফেটে যাওয়া বা গুরুতর আঘাতের দাবি সঠিক নয়। এই অভিযোগ, খারিজ করে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেদিনের হাতাহাতির ঘটনায় সঞ্জয় কুমার সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সেইমতো তদন্ত চলছে। এদিকে বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সিজেপি প্রতিনিধিদের পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের সাফাই, কোনওরকম আক্রমণ করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি আত্মরক্ষার্থে এই কাজ করেছিলেন। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতেই তিনি নিজের হাতের কড়া দিয়ে নিশুর বাবাকে আঘাত করেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন। বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে তাঁর দম্ভই প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি সিজেপির। ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে অভিযুক্ত করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মী ও দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্রের প্রভাবেই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। আমরা দাবি করছি, দিল্লি পুলিশ যেন অবিলম্বে সেইসব ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে, যারা এই ঘটনায় জড়িত বলে নিজেদের পরিচয় দিয়েছে। সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন, সঞ্জয় কুমার একজন ছাত্রের বাবা, যিনি শুরু থেকেই সিজেপি-নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত তাঁর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘটে যেতেন। বিক্ষোভকারীরা যখন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন, তখন একটি অপরাধী চক্রের সদস্যরা বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করে হিংসাশ্রয়ী ঘটনা ঘটায়। এটি একটি হত্যার চেষ্টা। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারা যুক্ত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আমরা এসসি-এসটি আইন প্রয়োগেরও দাবি জানিয়েছিলাম, কারণ তারা একটি দলিত পরিবারের সদস্য। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তাকে দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য একটি লজ্জাজনক দিন হিসেবে বর্ণনা করেন তাঁরা।
নতুন গতি 

























