দিল্লির যন্তর মন্তরে ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে পেলেট বা ছররা ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। আহত পড়ুয়া সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পৌঁছলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অভিযোগ, পেলেটের আঘাতে আহত সাহিল একাধিকবার অভিযোগ জানালেও এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি। কেন মামলা নেওয়া হচ্ছে না, পুলিশের কাছে সেই প্রশ্নের জবাব চেয়ে সরব হন রাহুল। এফআইআর দায়ের না হওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে যাবেন না বলে জানিয়ে পরে দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের দফতরের সামনে ধর্নায় বসেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও।
শুক্রবার সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে রাহুল পুলিশের কাছে ২০ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। কংগ্রেসের দাবি, ১৪ ও ১৭ আগস্ট সাহিল অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। প্রথমে মন্দির মার্গ থানায় অভিযোগ জানাতে চাওয়া হয়েছিল বলেও কংগ্রেসের এক নেতার দাবি। সেখানেও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে পরে রাহুল সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে চান। পুলিশের তরফে কেন এফআইআর নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর চেয়েই শুরু হয় ধর্না।
ঘটনার সূত্রপাত ২০ জুলাই। নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে সিজেপি-র ডাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে বড়সড় ছাত্র আন্দোলন হয়। ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস-সহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর পরেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসে। কয়েকজন পড়ুয়া দাবি করেন, নিরাপত্তাবাহিনীর ছোড়া পেলেটের আঘাতে তাঁরা জখম হয়েছেন। যদিও দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর।
ছররা-কাণ্ডে একাধিক পড়ুয়া ও অন্য কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর সামনে এলেও পরে আহতের সংখ্যা অন্তত দশে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাহিল লোচাব-সহ শেখ ইরশাদ মনসুরি, নূতন টোপ্পো, প্রশান্ত সিং এবং এক সংবাদমাধ্যমের কর্মী। আহত পড়ুয়ার চিকিৎসা ও হাসপাতালে থাকার নথিও পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর।
পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে। ৩০ জুলাই শীর্ষ আদালত আন্দোলনের সময় র্যাফের ব্যবহৃত গোলাবারুদের রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। ধাতব পেলেট ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার ব্যবস্থার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে আবেদনকারীদের আইনজীবী দাবি করেন, কয়েকজন আহত আন্দোলনকারীর শরীর থেকে ধাতব পেলেট বের করতে হয়েছে। পাল্টা সরকারি পক্ষের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাবাহিনীকে পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিআরপিএফ-এর তরফেও জানানো হয়, বাহিনী নির্ধারিত ‘ফোর্স গ্রেডিয়েন্ট’ মেনেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
এই আবহে রাহুলের থানায় গিয়ে ধর্না রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করল। কংগ্রেসের অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। দলের প্রশ্ন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল এবং তার আইনি ভিত্তিই বা কী ছিল?
তাই শুক্রবারের ধর্না নিছক একটি এফআইআর দায়েরের দাবি হয়ে থাকল না। ২০ জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ, পুলিশের ভূমিকা এবং আহত পড়ুয়াদের অভিযোগের বিচার—তিনটি প্রশ্নকে সামনে এনে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের ময়দান তৈরি করল রাহুলের এই পদক্ষেপ। এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের দিকেই।
নতুন গতি 


















