২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

পাহাড়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির শালুগাড়ায় একটি হোটেলে হাই-ভোল্টেজ এই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং পাহাড়ের একাধিক বিধায়ক। সোনম লামা, ভরত ছেত্রী, আনন্দময় বর্মন ও নোমান রাই থেকে উপস্থিত পাহাড়ের প্রায় সমস্ত বিধায়কই। ছিলেন এছাড়াও গোর্খা সমাজের প্রতিনিধি বিমল গুরুং, মন ঘিসিং, সিপিআরএম-এর জেবি রায়, দাওয়া পাকিন, নীরজ জিম্বা, রোশন গিরি। এমনকী ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি সঞ্জীব লামাও। এই বৈঠককে বিজেপির তরফে ঐতিহাসিক আখ্যা দেওয়া হয়। বিজেপি সাংসদ-বিধায়কদের বক্তব্য, পাহাড় সমস্যার সমাধানে এটি অমিত শাহের মাস্টারস্ট্রোক৷
সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, ১৯৮৮ সালে এই দিনেই গোর্খা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আর আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিলেন পাহাড় সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়োগ করা মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি চুক্তির চূড়ান্ত ড্রাফটিংয়ের কাজ করবে। পাহাড় সমস্যায় যে সমাধানই আসবে, তা গোর্খা সমাজের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হবে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম ও তৃণমূল বিগত ৫০ বছরে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের মানুষের অধিকারকে পিষে দিয়েছে। দু’হাজারেরও বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন, বোন-মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ভিটেমাটিছাড়া হয়েছেন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পাহাড়ে ন্যায়বিচার দেবে।
এদিন মূল সমাধানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইন্টারলোকিউটর কমিটি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেবে কেন্দ্রের কাছে। সেই অনুযায়ী যে সমস্যার সমাধান হবে, তা পুরোপুরি কনস্টিটিউশনাল বা সাংবিধানিক সমাধানই হবে বলে আশাবাদী বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা। তবে এটি পাহাড়া সমস্যা সমাধানের সূচনা মাত্র, এখনই এই বিষয়ে কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের মূল দাবির প্রসঙ্গটি সন্তর্পণে এড়িয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ও সাংসদরা। তাঁদের এই এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠেছে, যদি প্রস্তাব বা স্মারকলিপি বারবার কেন্দ্রের সরকারের কাছে বিজেপি সাংসদ জমা দিয়ে থাকেন, তবে এতদিনেও কেন খসড়া তৈরির কমিটি গঠন হল না। আর কেনই বা কয়েক মাস চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পাহাড় সমস্যা নিরসনে? সবই আইওয়াশ। আসলে শুভেন্দু অধিকারী বা অমিত শাহদের এই বৈঠক আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা গৌতম দেব এ-প্রসঙ্গে বলেন, এসব বৈঠক বিভ্রান্তি তৈরির জন্যই। সবটাই লোকদেখানো। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, যদি আবার কমিটি গঠনই করতে হয় তাহলে আগে ইন্টারলোকিউটার কী করল? খালি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।

ইথানল উৎপাদনের জ্বালায় বাজারে চিনির দাম অগ্নিমূল্য 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পাহাড়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার শিলিগুড়ির শালুগাড়ায় একটি হোটেলে হাই-ভোল্টেজ এই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং পাহাড়ের একাধিক বিধায়ক। সোনম লামা, ভরত ছেত্রী, আনন্দময় বর্মন ও নোমান রাই থেকে উপস্থিত পাহাড়ের প্রায় সমস্ত বিধায়কই। ছিলেন এছাড়াও গোর্খা সমাজের প্রতিনিধি বিমল গুরুং, মন ঘিসিং, সিপিআরএম-এর জেবি রায়, দাওয়া পাকিন, নীরজ জিম্বা, রোশন গিরি। এমনকী ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি সঞ্জীব লামাও। এই বৈঠককে বিজেপির তরফে ঐতিহাসিক আখ্যা দেওয়া হয়। বিজেপি সাংসদ-বিধায়কদের বক্তব্য, পাহাড় সমস্যার সমাধানে এটি অমিত শাহের মাস্টারস্ট্রোক৷
সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, ১৯৮৮ সালে এই দিনেই গোর্খা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আর আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিলেন পাহাড় সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়োগ করা মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি চুক্তির চূড়ান্ত ড্রাফটিংয়ের কাজ করবে। পাহাড় সমস্যায় যে সমাধানই আসবে, তা গোর্খা সমাজের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হবে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম ও তৃণমূল বিগত ৫০ বছরে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের মানুষের অধিকারকে পিষে দিয়েছে। দু’হাজারেরও বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন, বোন-মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ ভিটেমাটিছাড়া হয়েছেন। বিজেপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পাহাড়ে ন্যায়বিচার দেবে।
এদিন মূল সমাধানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইন্টারলোকিউটর কমিটি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেবে কেন্দ্রের কাছে। সেই অনুযায়ী যে সমস্যার সমাধান হবে, তা পুরোপুরি কনস্টিটিউশনাল বা সাংবিধানিক সমাধানই হবে বলে আশাবাদী বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা। তবে এটি পাহাড়া সমস্যা সমাধানের সূচনা মাত্র, এখনই এই বিষয়ে কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা যাবে না। তবে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের মূল দাবির প্রসঙ্গটি সন্তর্পণে এড়িয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ও সাংসদরা। তাঁদের এই এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠেছে, যদি প্রস্তাব বা স্মারকলিপি বারবার কেন্দ্রের সরকারের কাছে বিজেপি সাংসদ জমা দিয়ে থাকেন, তবে এতদিনেও কেন খসড়া তৈরির কমিটি গঠন হল না। আর কেনই বা কয়েক মাস চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে পাহাড় সমস্যা নিরসনে? সবই আইওয়াশ। আসলে শুভেন্দু অধিকারী বা অমিত শাহদের এই বৈঠক আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কৌশল। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা গৌতম দেব এ-প্রসঙ্গে বলেন, এসব বৈঠক বিভ্রান্তি তৈরির জন্যই। সবটাই লোকদেখানো। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, যদি আবার কমিটি গঠনই করতে হয় তাহলে আগে ইন্টারলোকিউটার কী করল? খালি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।