২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সিজেপির স্কুল অভিযানে হামলা বিজেপি-গুন্ডাদের, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বড়সড় আন্দোলন: আশুতোষ 

নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুর: রাজস্থানের জয়পুরে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে হামলা চলল। ককরোচ জনতা পার্টির কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা ও দলীয় কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে নিয়ে আসা বিজেপি-আশ্রিত গুণ্ডারা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সিজেপির হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আরও বড় আন্দোলন হবে।
জয়পুরের বাগরু বিধানসভার রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছিল আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। গ্ৰামে প্রবেশের আগেই রাস্তা আটকে সিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় একদল। লাথি, কিল, চড়, ঘুসি চালানো হয়। হামলায় সিজেপির একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং দলের এক স্বেচ্ছাসেবী গুরুতর আহত হন। তাঁর হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনার জন্য সাধারণ গ্রামবাসীকে দায়ী না করে আশুতোষ রাঙ্কা জানান, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার প্ররোচনায় বহিরাগতদের এনে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজস্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার তীবূ নিন্দা জানিয়েছে। শাসক দল বিজেপি সরাসরি সিজেপির বিরুদ্ধেই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পালটা অভিযোগ এনেছে।সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, রাজস্থানে সিজেপির অভিযান রুখতে বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে আসছে বিজেপি, আর মহারাষ্ট্রের স্কুলে ‘ভাড়া করা পড়ুয়া’। এভাবে আমাদের রোখা যাবে না। আরও বড়সড় আন্দোলন তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জয়পুরের দু’টি সরকারি স্কুল পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল সিজেপির। স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ, পরিকাঠামো, পানীয় জল, শৌচাগার-সহ পড়ুয়াদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল সিজেপি সদস্যদের। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতেই বিজেপি গ্রামের বাইরে গুন্ডা জড়ো করেছিল। এরই মধ্যে আবার সরকারি স্কুলে সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিয়ে শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুমতি ছাড়া সরকারি স্কুলে প্রবেশে করা যাবে না বলে বিধিনিষেধ জারি সরকার। সিজেপির দাবি, সরকারি স্কুলগুলির প্রকৃত ছবি সামনে আসুক চাইছে না কেন্দ্র, সেজন্যই নানারকম ফন্দি আঁটছে।
এদিকে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে মহারাষ্ট্রের লাতুরে আওসা এলাকার একটি জেলা পরিষদ স্কুলে গিয়েছিলেন সিজেপি প্রধান। তাঁর দাবি, স্কুলে পড়ুয়া সেজে বসানো হয়েছিল অন্য স্কুলের ছাত্রদের। এমনকী স্কুল চত্বর থেকে পাওয়া গিয়েছে মদের বোতলও। স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্কুলে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারের অবস্থাও ভাল নয়। তিনি যাওয়ার ঠিক আগেই স্কুলের শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়েছিল। স্কুলে মিড-ডে মিলের জন্য নতুন থালা আনা হয়েছিল। এই অভিযানের খবর পেয়েই সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে দেখানোর চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। স্কুল চত্বরে বেআইনি কাজকর্ম চলে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ইথানল উৎপাদনের জ্বালায় বাজারে চিনির দাম অগ্নিমূল্য 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

সিজেপির স্কুল অভিযানে হামলা বিজেপি-গুন্ডাদের, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে বড়সড় আন্দোলন: আশুতোষ 

আপডেট : ২৪ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার
নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুর: রাজস্থানের জয়পুরে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে হামলা চলল। ককরোচ জনতা পার্টির কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা ও দলীয় কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে নিয়ে আসা বিজেপি-আশ্রিত গুণ্ডারা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সিজেপির হুঁশিয়ারি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আরও বড় আন্দোলন হবে।
জয়পুরের বাগরু বিধানসভার রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শনে যাচ্ছিল আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। গ্ৰামে প্রবেশের আগেই রাস্তা আটকে সিজেপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয় একদল। লাথি, কিল, চড়, ঘুসি চালানো হয়। হামলায় সিজেপির একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং দলের এক স্বেচ্ছাসেবী গুরুতর আহত হন। তাঁর হাত ভেঙে যায়। এই ঘটনার জন্য সাধারণ গ্রামবাসীকে দায়ী না করে আশুতোষ রাঙ্কা জানান, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার প্ররোচনায় বহিরাগতদের এনে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজস্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার তীবূ নিন্দা জানিয়েছে। শাসক দল বিজেপি সরাসরি সিজেপির বিরুদ্ধেই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পালটা অভিযোগ এনেছে।সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, রাজস্থানে সিজেপির অভিযান রুখতে বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে আসছে বিজেপি, আর মহারাষ্ট্রের স্কুলে ‘ভাড়া করা পড়ুয়া’। এভাবে আমাদের রোখা যাবে না। আরও বড়সড় আন্দোলন তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জয়পুরের দু’টি সরকারি স্কুল পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল সিজেপির। স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পরিবেশ, পরিকাঠামো, পানীয় জল, শৌচাগার-সহ পড়ুয়াদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল সিজেপি সদস্যদের। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতেই বিজেপি গ্রামের বাইরে গুন্ডা জড়ো করেছিল। এরই মধ্যে আবার সরকারি স্কুলে সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিয়ে শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুমতি ছাড়া সরকারি স্কুলে প্রবেশে করা যাবে না বলে বিধিনিষেধ জারি সরকার। সিজেপির দাবি, সরকারি স্কুলগুলির প্রকৃত ছবি সামনে আসুক চাইছে না কেন্দ্র, সেজন্যই নানারকম ফন্দি আঁটছে।
এদিকে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে মহারাষ্ট্রের লাতুরে আওসা এলাকার একটি জেলা পরিষদ স্কুলে গিয়েছিলেন সিজেপি প্রধান। তাঁর দাবি, স্কুলে পড়ুয়া সেজে বসানো হয়েছিল অন্য স্কুলের ছাত্রদের। এমনকী স্কুল চত্বর থেকে পাওয়া গিয়েছে মদের বোতলও। স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, স্কুলে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারের অবস্থাও ভাল নয়। তিনি যাওয়ার ঠিক আগেই স্কুলের শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়েছিল। স্কুলে মিড-ডে মিলের জন্য নতুন থালা আনা হয়েছিল। এই অভিযানের খবর পেয়েই সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে দেখানোর চেষ্টা চালায় কর্তৃপক্ষ। স্কুল চত্বরে বেআইনি কাজকর্ম চলে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।