আনজুম মুনির: নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে যাবার ২৬ দিন পরে রাস্তায় নেমে প্রথম দিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা হলো। এই অভিজ্ঞতা হয়তো অভিষেক কোনোদিন ভুলবেন না। কালীঘাট থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বের হয়ে সোনারপুরের দিকে এগিয়ে যেতেই সঙ্গে সঙ্গে পরপর ছোড়া হল ডিম। শেষমেশ হেলমেট পরে নামেন সাংসদ। আর তারপরই পরপর ডিম ছোড়া হয় তাঁকে উদ্দেশ্য করে।
অভিষেক বলেন, “মানুষ দেখুন…আমি হাইকোর্টে যাব। পুলিশের কোনও নিরাপত্তা নেই। এখানে ইট, পাটকেল, ডিম। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রাহ্মণ সন্তান… আমি কি বাংলাদেশি?” নিগৃহীত দলের কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে ঠিক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতোই সোনারপুরে এসেছেন মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। তারপরই হেনস্থার শিকার তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় কামালগাজি যখন সিগন্যালে দাঁড়ায় সেই সময় কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা ছুটে যান। তাঁর গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে প্রথমে দেখানো হয় কালো পতাকা। পরে শুরু হয় ‘চোর চোর’ স্লোগান। এরপর সোনারপুরে যে কর্মীর বাড়িতে অভিষেক যাবেন, সেই রাস্তায় একদল মহিলা ও পুরুষ রাস্তার দু’ধারে জমায়েত করতে শুরু করেন। শোনা যায় তাঁরা নিজেরা আলোচনা করছিলেন ‘ডিম তৈরি রাখ’।
এরপর গাড়ি থেকে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাইকে করে ওই কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। হেলমেট পরেন তিনি। জনতার ভিড়ের জন্য আটকে দেওয়া হয় বাইক। তারপর শুরু হয় ডিম ছোড়া। পরপর ডিম ছোড়া হতে থাকে তাঁকে লক্ষ্য করে। পাশ থেকে শোনা যায়, ‘মার মার’। এরপর পিছন থেকে মারধর করা হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেকের জামা। তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা আগলে রাখার চেষ্টা করেন তাঁকে। এর পরে নির্দিষ্ট বাড়িতে অভিষেক যখন পৌঁছান, তখন তার সারা গাঁয়ে, জামায় মুখে ডিম লেগে রয়েছে।
এবার প্রশ্ন উঠেছে এটা কি বিজেপির পূর্ব পরিকল্পিত হামলা, না জনরোষ? বিজেপি একে জনরোষ বলেছে কিন্তু তৃণমূল জনরোষ বলেছে।
নতুন গতি 




















