খান আরশাদ, বীরভূম:
বাঁকুড়ার শালতোড়ার আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কের রেশ এবার ছড়িয়ে পড়ল বীরভূমে। রুম্পার মৃত্যুর জন্য শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির মন্তব্যকে দায়ী করে বুধবার দুবরাজপুরে বিক্ষোভে সামিল হলেন আশা কর্মীরা। বিধায়কের প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা, মৃত কর্মীর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের দাবিতে দুবরাজপুর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর হাতে স্মারকলিপিও তুলে দেন তাঁরা।
আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের অভিযোগ, প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের উপর ধারাবাহিকভাবে একাধিক অতিরিক্ত সরকারি প্রকল্পের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট পরিষেবা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণের অভাবে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই জনপ্রতিনিধিদের একাংশ তাঁদের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ।
আশা কর্মীদের দাবি, শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরি এক কর্মীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকার এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেও আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য ও আচরণ কর্মীদের সামাজিক মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আশা কর্মীরা চার দফা দাবি জানান। তাঁদের দাবি, শালতোড়ার বিধায়ককে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে; মৃত আশা কর্মী রুম্পা মণ্ডলের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং তাঁর সন্তানদের শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে; কর্মরত অবস্থায় মৃত আশা কর্মীদের পরিবারকে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে হবে; এবং আয়ুষ্মান যোজনাসহ অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে আশা কর্মীদের অবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে।
বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিডিও জয়সূর্য চক্রবর্তীর হাতে স্মারকলিপি জমা দেন। উপস্থিত ছিলেন জিনাতারা খাতুন, হাফিজা খাতুন, আলপনা ঘোষ, ইতু মুখার্জি, সোনালী মালাকার, মিনা খাতুন-সহ অন্যান্য আশা কর্মীরা।
দুবরাজপুরের বিডিও জয়সূর্য চক্রবর্তী জানান, আশা কর্মীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
নতুন গতি 


















