০৪ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
০৪ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩০ বছর ধরে ৩কিমি দীর্ঘ খাল কেটে নজির গড়লেন লঙ্গি ভূঁইয়া

বিহারের এই কৃষক একাই বিনা পারিশ্রমিকে ৩০ বছর ধরে ৩কিমি দীর্ঘ খাল কেটে নজির গড়লেন। আপনাকে কুর্নিশ জানাই

নতুন গতি ডিজিটাল ডেস্ক : বিহারের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক লঙ্গি ভূঁইয়া, বয়স ৭০ বছর। একা হাতে একটা আস্ত খাল খুঁড়ে ফেলেছেন লাথুয়া এলাকার কোঠিওয়ালা গ্রামের কৃষক লঙ্গি ভূঁইয়া। তিনি একার চেষ্টায় গত ৩০ বছর ধরে খাল খুঁড়ে চলেছেন। তাঁদের গ্রাম পাহাড়ের কোলে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায়। বর্ষাকালে পাহাড় বেয়ে যে জল আসে, সেই জন্য যাতে গাঁয়ের কাজে লাগানো যায় সেই কারণেই দীর্ঘদিন আগে থেকেই নিজের মন শক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি। লঙ্গি বলছেন, প্রথম থেকে কেউ আমাকে এই কাজে উৎসাহ দেয়নি বরং সবাই যখন রুটিরুজির তাগিদে বেরিয়েছেন, তখন আমি গিয়েছি খাল কাটতে। প্রথমে লোকে পাগল বলেছে, কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে এমনও আমি করতে পারব। তবে তিরিশ বছর ধরে টানা চেষ্টা করার পর কাজ শেষ হয়েছে।

কিন্তু কেন এই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। বলছেন, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও গ‌্রামে সরাসরি জল আসার কোনও সুযোগ এতদিন ছিল না। এবার এই খাল‌ কেটে দেওয়ায় পাহাড়ি নদী থেকে সরাসরি জল আসবে গ্রামে। গয়া জেলা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে কোঠিওয়ালা গ্রাম ঘেরা জঙ্গল আর পাহাড়। সেখানেই সবার চোখের আড়ালে এমন অসম্ভব কাজ করে ফেলেছেন এক বৃদ্ধ। খুঁড়েছেন তিন কিলোমিটার লম্বা খাল। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ৩০ বছর ধরে একক দক্ষতায় ওই খাল কাটার কাজ করছেন ওই বৃদ্ধ। আজ খাল কাটা হয়ে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত লাভ হবে সাধারণ মানুষের, এই গ্রামের জলের সমস্যা মিটবে। বর্তমানে ওনার এই সাফল্যে ৩টি গ্রাম ও প্রায় ৩০০০ গ্রামবাসী উপকৃত।

উত্তরের সিঁড়ির মীর মদন গৌরব সম্মাননা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

৩০ বছর ধরে ৩কিমি দীর্ঘ খাল কেটে নজির গড়লেন লঙ্গি ভূঁইয়া

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, রবিবার

বিহারের এই কৃষক একাই বিনা পারিশ্রমিকে ৩০ বছর ধরে ৩কিমি দীর্ঘ খাল কেটে নজির গড়লেন। আপনাকে কুর্নিশ জানাই

নতুন গতি ডিজিটাল ডেস্ক : বিহারের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক লঙ্গি ভূঁইয়া, বয়স ৭০ বছর। একা হাতে একটা আস্ত খাল খুঁড়ে ফেলেছেন লাথুয়া এলাকার কোঠিওয়ালা গ্রামের কৃষক লঙ্গি ভূঁইয়া। তিনি একার চেষ্টায় গত ৩০ বছর ধরে খাল খুঁড়ে চলেছেন। তাঁদের গ্রাম পাহাড়ের কোলে। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায়। বর্ষাকালে পাহাড় বেয়ে যে জল আসে, সেই জন্য যাতে গাঁয়ের কাজে লাগানো যায় সেই কারণেই দীর্ঘদিন আগে থেকেই নিজের মন শক্ত করে নিয়েছিলেন তিনি। লঙ্গি বলছেন, প্রথম থেকে কেউ আমাকে এই কাজে উৎসাহ দেয়নি বরং সবাই যখন রুটিরুজির তাগিদে বেরিয়েছেন, তখন আমি গিয়েছি খাল কাটতে। প্রথমে লোকে পাগল বলেছে, কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে এমনও আমি করতে পারব। তবে তিরিশ বছর ধরে টানা চেষ্টা করার পর কাজ শেষ হয়েছে।

কিন্তু কেন এই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। বলছেন, বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও গ‌্রামে সরাসরি জল আসার কোনও সুযোগ এতদিন ছিল না। এবার এই খাল‌ কেটে দেওয়ায় পাহাড়ি নদী থেকে সরাসরি জল আসবে গ্রামে। গয়া জেলা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে কোঠিওয়ালা গ্রাম ঘেরা জঙ্গল আর পাহাড়। সেখানেই সবার চোখের আড়ালে এমন অসম্ভব কাজ করে ফেলেছেন এক বৃদ্ধ। খুঁড়েছেন তিন কিলোমিটার লম্বা খাল। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত ৩০ বছর ধরে একক দক্ষতায় ওই খাল কাটার কাজ করছেন ওই বৃদ্ধ। আজ খাল কাটা হয়ে যাওয়াতে শেষ পর্যন্ত লাভ হবে সাধারণ মানুষের, এই গ্রামের জলের সমস্যা মিটবে। বর্তমানে ওনার এই সাফল্যে ৩টি গ্রাম ও প্রায় ৩০০০ গ্রামবাসী উপকৃত।