১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

বন্যার জলে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ, ভূতনিতে ‘মানবতার হাত’ মোস্তাক হোসেনের, দুর্গতদের পাশে মোথাবাড়ির বিধায়ক নজরুল ইসলাম

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
  • 16
নাজমুস সাহাদাত, মোথাবাড়ি: বন্যার জলে কোথাও ঘর ডুবে গিয়েছে, কোথাও ভেসে গিয়েছে সংসারের শেষ সম্বল। একদিকে খাবারের চিন্তা, অন্যদিকে মাথা গোঁজার আশ্রয়। রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন। এমন দুর্যোগের মধ্যে ভূতনির বানভাসি মানুষের কাছে পৌঁছে গেল সাহায্যের হাত। ১০ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ নিয়ে মাঠে নামলেন শিল্পপতি ও সমাজসেবী মোস্তাক হোসেন।
গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জলস্ফীতিতে মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনটি পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বহু পরিবার ঘর ছেড়ে উঁচু জায়গা কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে মোস্তাক হোসেনের জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণের কাজ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রীর কিট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ত্রাণের প্যাকেটে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল, চিড়ে, চিনি, বিস্কুট ও দুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। শুধু খাবারেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। বন্যার জলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলির জন্য ১০ হাজার ত্রিপল দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। ফলে একদিকে খাবারের সংস্থান, অন্যদিকে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা—দুই দিকেই সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই ত্রাণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মোথাবাড়ির বিধায়ক মো. নজরুল ইসলাম। জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ভূতনির বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি দেখেছেন। দুর্গত পরিবারগুলির সমস্যার কথা জানতে গিয়ে তাঁদের প্রয়োজনের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়। সেই পরিস্থিতির কথা মোস্তাক হোসেনের কাছে পৌঁছনোর পর জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটির মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে ভূতনির বন্যায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াও সহজ কাজ নয়। বহু রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় সাধারণ যানবাহনে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তৈরি করা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। মানিকচকে মূল ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় নৌকার মাধ্যমে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রাণকর্মীরা জলমগ্ন এলাকায় গিয়ে পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।
বিধায়ক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রধান দায়িত্ব। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও সহযোগিতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে, তাঁদের পাশেও থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মোস্তাক হোসেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও বন্যা পরিস্থিতিতে মানিকচক এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটি বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবারও দুর্গত মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বন্যা মানুষের ঘর কেড়ে নিতে পারে, স্বাভাবিক জীবন থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দুর্যোগের সেই অন্ধকারে সাহায্যের একটি হাত অনেকটাই বদলে দিতে পারে অসহায় মানুষের মন। ভূতনিতে ১০ হাজার পরিবারের কাছে খাবার ও ত্রিপল পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই বানভাসি মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে আশার এক নতুন বার্তা।

ফুড ইন্সপেক্টরহীন ময়নাগুড়ি পুরসভা, খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বন্যার জলে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ, ভূতনিতে ‘মানবতার হাত’ মোস্তাক হোসেনের, দুর্গতদের পাশে মোথাবাড়ির বিধায়ক নজরুল ইসলাম

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার
নাজমুস সাহাদাত, মোথাবাড়ি: বন্যার জলে কোথাও ঘর ডুবে গিয়েছে, কোথাও ভেসে গিয়েছে সংসারের শেষ সম্বল। একদিকে খাবারের চিন্তা, অন্যদিকে মাথা গোঁজার আশ্রয়। রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন। এমন দুর্যোগের মধ্যে ভূতনির বানভাসি মানুষের কাছে পৌঁছে গেল সাহায্যের হাত। ১০ হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ নিয়ে মাঠে নামলেন শিল্পপতি ও সমাজসেবী মোস্তাক হোসেন।
গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জলস্ফীতিতে মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনটি পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বহু পরিবার ঘর ছেড়ে উঁচু জায়গা কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে মোস্তাক হোসেনের জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণের কাজ। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রীর কিট তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ত্রাণের প্যাকেটে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল, চিড়ে, চিনি, বিস্কুট ও দুধ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। শুধু খাবারেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। বন্যার জলে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলির জন্য ১০ হাজার ত্রিপল দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। ফলে একদিকে খাবারের সংস্থান, অন্যদিকে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা—দুই দিকেই সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই ত্রাণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মোথাবাড়ির বিধায়ক মো. নজরুল ইসলাম। জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ভূতনির বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি দেখেছেন। দুর্গত পরিবারগুলির সমস্যার কথা জানতে গিয়ে তাঁদের প্রয়োজনের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়। সেই পরিস্থিতির কথা মোস্তাক হোসেনের কাছে পৌঁছনোর পর জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটির মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে ভূতনির বন্যায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াও সহজ কাজ নয়। বহু রাস্তা জলের তলায় চলে যাওয়ায় সাধারণ যানবাহনে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তৈরি করা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। মানিকচকে মূল ত্রাণ বণ্টন কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় নৌকার মাধ্যমে সরাসরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রাণকর্মীরা জলমগ্ন এলাকায় গিয়ে পরিবারের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন।
বিধায়ক মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিপদের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রধান দায়িত্ব। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও সহযোগিতার কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর যেসব পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে, তাঁদের পাশেও থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মোস্তাক হোসেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও বন্যা পরিস্থিতিতে মানিকচক এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জি ডি চ্যারিটেবল সোসাইটি বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবারও দুর্গত মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বন্যা মানুষের ঘর কেড়ে নিতে পারে, স্বাভাবিক জীবন থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দুর্যোগের সেই অন্ধকারে সাহায্যের একটি হাত অনেকটাই বদলে দিতে পারে অসহায় মানুষের মন। ভূতনিতে ১০ হাজার পরিবারের কাছে খাবার ও ত্রিপল পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই বানভাসি মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে আশার এক নতুন বার্তা।