দেশজুড়ে জেন-জি’দের আন্দোলন চলছে। একদিকে কংগ্রেস, অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টি— রাজ্যে রাজ্যে আন্দোলনের ঝড় তুলছে পড়ুয়াদের সমর্থনে। সম্প্রতি রাজস্থানে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিতে গিয়ে আক্রান্ত হন সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। আন্দোলন আরও দীর্ঘতর করার ডাক দেওয়ার পরই সাঁড়াশি চাপের মুখে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ করল রাজস্থান সরকার। রাজস্থানের বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ ছাত্র আন্দোলনের বড়সড় সাফল্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। স্কুলগুলির মানোন্নয়নের জন্য ১২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই টাকা আগামী তিন বছরে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজস্থানে পুরসভা ভোট আসন্ন। তারপর রয়েছে রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ছাত্র আন্দোলনের কাছে নতিস্বীকার করে পরিকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ-বৃদ্ধি তাৎপর্যপূর্ণ।
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি আন্দোলনের সাফল্যের পথ ধরে কংগ্রেসও নেমে পড়েছে দেশজুড়ে আন্দোলনে। ‘ছাত্র কা গুঞ্জ’ নামে কর্মসূচি চলছে বিভিন্ন রাজ্যে। রাহুল গান্ধী স্বয়ং ছাত্র-ছাত্রীদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন, তাঁদের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। গোটা দেশ তাঁর সেই কর্মসূচিতে সাড়া দিচ্ছে। একইসঙ্গে সিজেপিও দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি চালাচ্ছে। এই জোড়া কর্মসূচির দাপটে বিজেপি অনেকটাই দিশেহারা। কোন পথে এই সাঁড়াশি আক্রমণ তারা সামলাবে, তা নিয়ে রণনীতি তৈরি করতেই ব্যস্ত বিজেপি। তারা বুঝে গিয়েছে শুধু বাধা দিয়ে এই আন্দোলন দমন করা যাবে না। পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে কিছু উন্নয়ন করতে হবে। শুধু প্রচারের ঢক্কানিনাদে আর চলবে না। সম্প্রতি সিজেপির কর্মসূচিতে রাজস্থানের এক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে আক্রান্ত হন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। স্কুল পরিকাঠামো নিয়ে বিধানসভাতে সুর চড়ায় কংগ্রেসও। তারপর রাহুল গান্ধীর কর্মসূচি নিয়ে মহারাষ্ট্রে সংঘর্ষ হয়। এইসব ঘটনা প্রবাহের পর নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে রাজস্থানের বিজেপি সরকার। এই কর্মপরিকল্পনা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি কার্যত স্পষ্ট করে দিল বিজেপির রাজ্যে স্কুল পরিকাঠামোয় গলদ রয়েছে। রাজস্থানের বিধানসভায় একটি রিপোর্টে জানানো রাজ্যের ৬১১টি সরকারি স্কুলের কোনও নিজস্ব ভবন নেই। দু’হাজারের বেশি স্কুলে শৌচালয়ের পরিষেবা নেই। পানীয় জলের বন্দোবস্ত নেই এক হাজারেরও বেশি স্কুলে। চার বছর সরকার চালানোর পর এখন পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের উপর দায় চাপাতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু তা ধোপে টিকছে না। এবার উন্নয়ন তাদের করতেই হবে, নতুবা চলবে লাগাতার আন্দোলন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা নতুন বরাদ্দের কথা ঘোষণা করে জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরে রাজস্থানে ৩,৫৮৭টি নতুন স্কুলভবন তৈরি করা হবে। খরচ হবে ২ হাজার ৪৮৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। ৮৩,৭৮৩টি নতুন শ্রেণিকক্ষও নির্মাণ করা হবে কিছু স্কুলে। সে জন্য বরাদ্দ ৮ হাজার ৩৭৮ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ২২,৫৮৯ টি স্কুলে ভবন মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১ হাজার ১২৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্কুলে ১৩ হাজারেরও বেশি শৌচালয় তৈরি হবে ৩৪০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে। রাজস্থান কংগ্রেস এই মর্মে জানিয়েছে, স্কুলের পরিকাঠামোগত সমস্যাকে পুরভোটের আগে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা হতে পারে। তাই তড়িঘড়ি স্কুলগুলির মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা।
নতুন গতি 



















