বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে তিনদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙায় অবস্থিত সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে অনুষ্ঠিত বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনা করলেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের মুখ্যমন্ত্রীকে বহুবার সেনা বা নিরাপত্তাবাহিনীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, কিন্তু তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। একইসঙ্গে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও শোনা গেল শাহের গলায়। উল্লেখ্য, প্রথমবার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, “এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।”
এদিনের অনুষ্ঠানে ১৮৯ কোটি টাকার নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের শিলান্যাস সহ বেশকিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মধ্যে রানিডাঙায় এসএসবির ৮০ একর জমিতে নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন, ঠাকুরগঞ্জে ১৯ তম ব্যাটেলিয়ন, কিষাণগঞ্জে ১২ তম ব্যাটেলিয়ন এবং নিউ জলপাইগুড়ির ট্রানজিট ক্যাম্পের সূচনা করে শাহ বলেন, উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিকাঠামোর নতুন অধ্যায় শুরু হল। পাশাপাশি তিনি জানান, সীমান্তের সুরক্ষার জন্য সবদিক থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। সেই সঙ্গে যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ‘ভাইব্রান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০’-এর অধীনে ৬,৮৩৯ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তে অবস্থিত গ্রামগুলিকে সড়ক পথের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি । সীমান্ত ঘেরার জন্য জমি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরোধের প্রসঙ্গ এদিন উঠে আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, “২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন।” শাহ আরও যোগ করেন, “শিলিগুড়ি করিডরকে মজবুত করতে ৫৬০ একর জমি প্রয়োজন। কিন্তু এত বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা দেয়নি। তাই আমি শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তিনি ক্ষমতার আসার পরই জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন। আর আজ তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। তা আমাদের কাছে সোনায় সোহাগার মতো।” অন্যদিকে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ‘ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড’ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘তিস্তা প্রহার’-এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমেও এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন শাহ। তিনি বলেন, “চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছিলেন। চোপড়া, কিষানগঞ্জ এবং ধূপগুড়ি বেস থেকে পুরো শিলিগুড়ি করিডরের উপরে নজরদারি চালানো হচ্ছে।”
দিনকয়েক আগে দিল্লিতে বন্দে মাতরম বিতর্কে কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছিলেন শাহ। এদিনের অনুষ্ঠানে আবার সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন তিনি। সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে সুকৌশলে জাতীয় গান বন্দে মাতরম নিয়ে হওয়া বিতর্ককে উসকে দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হত না। আমার দুঃখ হত। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।” শিক্ষাক্ষেত্রে বন্দে মাতরমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ মন্তব্য করেন, “স্কুলে যখন শিশুরা সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গান গায়, তখন তাদের মধ্যে দেশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে ভাবনার বিকাশ ঘটে।”
একই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অমিত শাহকে ‘চাণক্য’ সম্বোধন করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন,”দেশের সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করছে। এসএসবি, বিএসএফ ও রাজ্য এজেন্সির মধ্যে উন্নত সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।”
নতুন গতি 


















