নিজস্ব সংবাদদাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উপভোক্তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ অব্যাহত। রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের ঘেরাও—দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এই অসন্তোষের আবহে এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, আগের সরকার বাছবিচার না করে ‘মুড়ি-মুড়কির মতো’ ভাতা বিলি করায় মানুষের অভ্যাস নষ্ট হয়েছে।
শনিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপবাবু বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতে পেতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। এটা সকলকে বুঝতে হবে যে, সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প রয়েছে, তবে তার একটা নির্দিষ্ট আর্থিক ও নীতিগত সীমা আছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন, প্রতিটি প্রকল্পের জন্যই নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া থাকে। যাঁরা সেই শর্ত পূরণ করবেন, কেবল তাঁরাই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন। নির্বিচারে সকলকে সরকারি অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে তৃণমূল এই খারাপ সংস্কৃতি তৈরি করেছে বলে তিনি তোপ দাগেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, নথিপত্র যাচাইয়ের পর যোগ্য উপভোক্তারা ১৭ আগস্ট থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছানোয় জেলায় জেলায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিরাটিতে রেল অবরোধের পাশাপাশি শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক দফতরে গিয়ে মহিলাদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিক্ষোভের জেরে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক মাঝপথেই থামাতে বাধ্য হন তিনি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল উপভোক্তাদের স্থানীয় বিধায়ক কিংবা এসডিও দফতরে লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে প্রায় দুই কোটি আবেদনের তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে প্রশাসনিক কিছুটা সময় লাগবে উল্লেখ করে মা-বোনেদের ধৈর্য ধরার আবেদন জানান তিনি। এই বিক্ষোভের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পুরমন্ত্রী দাবি করেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে এখনও তৃণমূলের কিছু লোকজন সক্রিয় রয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের তালিকায় নাম তুলে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। পুরো বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও জানান। একই সুর শোনা গিয়েছে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির গলাতেও। তিনিও দাবি করেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই যোগ্যদের বঞ্চিত করে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন গতি 


















