৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বামপন্থী অনিক দত্ত আপাদমস্তক একজন বিদ্রোহী মানুষ

দেবজিৎ মুখার্জি কলকাতা: অনিক দত্ত শুধু একজন বড়ো মাপের পরিচালক নয়, তিনি একজন বিদ্রোহী চরিত্রের মানুষ। বামপন্থী অনিক দত্তর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাত আমরা সবাই জানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনীক দত্তর এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০১৮ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নন্দন চত্বরে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চারিদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল বিশাল ছবি এবং হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক, তথা মুখ্যমন্ত্রীর, এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়।

পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল। এই বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়ে পরিচালকের কর্মজীবনেও। অন্তত পরিচালকের ঘনিষ্ঠরা এটাই মনে করেন। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় অনীক দত্তর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল তীব্র রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্যাটায়ার, যেখানে পরোক্ষভাবে সমকালীন রাজনীতির নানা দিককে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র একদিন পরেই কলকাতার প্রায় সমস্ত মাল্টিপ্লেক্স এবং সিনেমা হল থেকে রহস্যজনকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয় ছবিটি। অগ্রিম টিকিট কেটেও দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এভাবে ছবি প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।

সে সময়ে সায়নী ঘোষ ছবিটির উপর এই অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’এর সামনে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবীদের আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে সায়নী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে শিল্পের টুঁটি চিপে ধরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি কোনও ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে আইনিভাবে মুক্তি পায়, তবে কোন অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে হল মালিকেরা রাতারাতি সেই ছবি নামিয়ে দিতে বাধ্য হন? তবে সেই সময় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেও, সেই সায়নী ঘোষ, সময় এগোতেই পট পরিবর্তন করেন। তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।

ঈদের দিন যাদবপুরে ‘সাভারকর জয়ন্তী’ পালন করতে চলেছে এবিভিপি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বামপন্থী অনিক দত্ত আপাদমস্তক একজন বিদ্রোহী মানুষ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার

দেবজিৎ মুখার্জি কলকাতা: অনিক দত্ত শুধু একজন বড়ো মাপের পরিচালক নয়, তিনি একজন বিদ্রোহী চরিত্রের মানুষ। বামপন্থী অনিক দত্তর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাত আমরা সবাই জানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনীক দত্তর এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০১৮ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নন্দন চত্বরে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চারিদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল বিশাল ছবি এবং হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক, তথা মুখ্যমন্ত্রীর, এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়।

পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল। এই বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়ে পরিচালকের কর্মজীবনেও। অন্তত পরিচালকের ঘনিষ্ঠরা এটাই মনে করেন। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় অনীক দত্তর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল তীব্র রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্যাটায়ার, যেখানে পরোক্ষভাবে সমকালীন রাজনীতির নানা দিককে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র একদিন পরেই কলকাতার প্রায় সমস্ত মাল্টিপ্লেক্স এবং সিনেমা হল থেকে রহস্যজনকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয় ছবিটি। অগ্রিম টিকিট কেটেও দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এভাবে ছবি প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।

সে সময়ে সায়নী ঘোষ ছবিটির উপর এই অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস’এর সামনে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বুদ্ধিজীবীদের আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে সায়নী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে শিল্পের টুঁটি চিপে ধরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি কোনও ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে আইনিভাবে মুক্তি পায়, তবে কোন অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে হল মালিকেরা রাতারাতি সেই ছবি নামিয়ে দিতে বাধ্য হন? তবে সেই সময় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেও, সেই সায়নী ঘোষ, সময় এগোতেই পট পরিবর্তন করেন। তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।