আনজুম মুনির, শিলিগুড়ি: অসম থেকে শিলিগুড়ি হয়ে উত্তরপ্রদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ গাঁজার চালান আটক করল নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। শুক্রবার গভীর রাতে কদমতলা এলাকায় মেডিক্যাল আউটপোস্ট পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে একটি মালবাহী লরি থেকে প্রায় ৮০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় লরির চালক কুলদীপ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এনসিবি সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল যে অসম থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা শিলিগুড়ির করিডর ব্যবহার করে উত্তরপ্রদেশে পাচার করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এনসিবি ও মেডিক্যাল আউটপোস্ট পুলিশের একটি যৌথ দল কদমতলা এলাকায় নজরদারি শুরু করে।
অভিযান চলাকালীন একটি হরিয়ানা নম্বরের মালবাহী লরি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। প্রথমে কিছু না মিললেও পরে চালকের কেবিনে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বার খুঁজে পান তদন্তকারীরা। ওই চেম্বার খুলতেই বেরিয়ে আসে প্রায় ৮০টি প্যাকেট গাঁজা। ওজন করে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া গাঁজার মোট পরিমাণ প্রায় ৮০০ কেজি।

ঘটনাস্থল থেকেই লরির চালক কুলদীপ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অসম থেকে আনা এই মাদকের চালান উত্তরপ্রদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং শিলিগুড়িকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও লরিটি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে এনসিবি। এনডিপিএস আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে শনিবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়। বর্তমানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। গোটা নেটওয়ার্কের হদিস পেতে তদন্তকারীরা একাধিক সূত্র খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি এনসিবির দ্বিতীয় বড় সাফল্য। এর আগে ২১ মে রাতে প্রধাননগরের নর্মদা বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের হাইড্রোপনিক গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিল এনসিবি। সেই ঘটনায় এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরপর দু’দিনে দুটি বড় মাদকবিরোধী অভিযানের সাফল্যে স্পষ্ট যে উত্তরবঙ্গকে ব্যবহার করে পরিচালিত আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখন আরও সক্রিয় হয়েছে। এনসিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ গাঁজার চালানের পেছনে কারা রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল।
নতুন গতি 
























