আনজুম মুনির, কলকাতা: তারাতলায় ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে একটি ভয়াবহ ও মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। বুধবার দুপুর বারোটা থেকে সাড়ে বারোটা নাগাদ সেখানে একটি নির্মাণকাধীন বহুতল বেসরকারি গুদামঘরের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। তিনতলা এই ভবনটিতে যখন আরসিসি (RCC) ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে সম্পূর্ণ কাঠামোটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে টন টন কংক্রিটের স্ল্যাব এবং ভারী লোহার বিমের নিচে চাপা পড়েন সেখানে কর্মরত বহু শ্রমিক। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (NDRF/SDRF), সিভিল ডিফেন্স এবং দমকল বাহিনী। পরিস্থিতির চরম ভয়াবহতা এবং ধ্বংসস্তূপের বিশালতা বিবেচনা করে উদ্ধারকাজে নামানো হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও। আটকে থাকা শ্রমিকদের সুরক্ষিতভাবে বের করে আনাই এখন উদ্ধারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ভেসে আসা আর্তনাদকে লক্ষ্য করে গ্যাস কাটার ও ক্রেন দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কংক্রিট ও লোহার বিম কাটার কাজ চলছে। পাশাপাশি ভিতরে অক্সিজেন ও জল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ২১ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করতে পেরেছে, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি ১৮ জনকে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও বেশ কিছু শ্রমিকের ভেতরে আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করে উদ্ধারকাজের তদারকি করছেন। কলকাতা পুরসভার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই গুদামঘরের নকশায় বড়সড় ত্রুটি ছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত নির্মাণকাজের অডিট বা নিরাপত্তা সমীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরসভা এলাকার সমস্ত নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত থাকবে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি শহরের নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং শ্রমিকদের সুরক্ষাবিধি নিয়ে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
নতুন গতি 











