২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

মালদায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসী

মালদা: প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ একটি পাকা রাস্তার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। শনিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় মালদার চাঁচল-১ ব্লকের আলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাস্তিপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাস্তিপাড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, যেখানে ৮ ইঞ্চি পুরু ঢালাই হওয়ার কথা, সেখানে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরুত্বে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মালেক আলীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। এরপর তাঁরা জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক প্রশাসন-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পাশাপাশি রাস্তার কাজের গুণগত মান যাচাই এবং প্রয়োজনে কাজ বন্ধ রাখার দাবিতে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন। তাঁর দাবি, রাস্তার কাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং রাস্তা নির্মাণে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে রাস্তা নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।

রেললাইনের পাশে পড়ে যুবক, আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় বামনহাট

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মালদায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসী

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, শনিবার

মালদা: প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ একটি পাকা রাস্তার কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। শনিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় মালদার চাঁচল-১ ব্লকের আলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাস্তিপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাস্তিপাড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, যেখানে ৮ ইঞ্চি পুরু ঢালাই হওয়ার কথা, সেখানে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরুত্বে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিম্নমানের সিমেন্ট ও বালি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মালেক আলীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। এরপর তাঁরা জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ব্লক প্রশাসন-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পাশাপাশি রাস্তার কাজের গুণগত মান যাচাই এবং প্রয়োজনে কাজ বন্ধ রাখার দাবিতে পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁচল-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন। তাঁর দাবি, রাস্তার কাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন এবং রাস্তা নির্মাণে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে রাস্তা নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।