নদীয়া: দেশের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট। কিন্তু নদীয়ার ইতিহাসে স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি বিশেষ দিন—১৮ আগস্ট। দেশভাগের সময় র্যাডক্লিফের সীমানা নির্ধারণে ভুলের কারণে স্বাধীনতার প্রথম কয়েকটি দিন নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট মহকুমা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষিত হয়েছিল। ফলে ১৫ আগস্টের আনন্দের বদলে নদিয়াবাসীর জীবনে নেমে এসেছিল আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
১৯৪৭ সালের ১২ আগস্ট রেডিও ঘোষণায় নদিয়া পাকিস্তানের অংশ হচ্ছে জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জেলার মানুষ। কৃষ্ণনগরে পাকিস্তানের পতাকাও উত্তোলিত হয়। পরিস্থিতি বদলাতে আন্দোলনে নামেন রানি জ্যোতির্ময়ী দেবী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কাবু লাহিড়ী, প্রমথনাথ শুকুল, সাবিত্রী দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিষয়টি ব্রিটিশ প্রশাসনের নজরে এলে র্যাডক্লিফ সীমান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। শেষ পর্যন্ত চুয়াডাঙা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর পাকিস্তানের অংশ হলেও কৃষ্ণনগর ও রানাঘাট মহকুমা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৮ আগস্ট রেডিওতে সেই ঘোষণা হতেই নদিয়াজুড়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। তাই দিনটি আজও নদিয়ার কাছে ‘স্বাধীনতা দিবস’ বা ‘ভারতভুক্তি দিবস’ হিসেবে স্মরণীয়।
এই ঐতিহাসিক দিনকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে ১৯৯১ সালের ১৮ আগস্ট শিবনিবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে রানাঘাট, বনগাঁ, মালদা ও বালুরঘাটেও দিনটি পালনের পরিধি বাড়ে। বর্তমানে শিবনিবাস মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ইতিহাস স্মরণ করেন। আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠান ও নৌকাবাইচ।
১৫ আগস্ট জাতীয় আবেগের স্বাধীনতা দিবস, আর ১৮ আগস্ট নদিয়াবাসীর কাছে ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়ের স্মারক—দুটি দিনই তাই আজ সমান আবেগে স্মরণীয়।
নতুন গতি 




















