৩০ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
৩০ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

জামুড়িয়ার নিমশা কবি নজরুল সংঘের কবির প্রয়াণের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তিতে স্মরণ

নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন গতি : আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি-শিল্পাঞ্চলের জামুড়িয়ার নিমশায় কবি নজরুল সংঘের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন গ্রামের মানুষ। মূল অনুষ্ঠানটি হয় নিমশা হাটতলায় কবির আবক্ষ মূর্তির সম্মুখে। অনুষ্ঠানে কবির মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। কবির স্মৃতি বিজড়িত নিমশায় তাঁর প্রয়াণের অর্ধশতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনাসভা হয় এবং বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে ৭০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে । ‘ক’ বিভাগে অন্তরা মন্ডল, জয়ন্তী পালন, অর্কনীল মণ্ডল এবং ‘খ’ বিভাগে পবিত্র রুইদাস , মানস ঘোষ, সামরীন কাজী প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে। কৃতিত্ব অর্জনকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অঙ্কন শিল্পী রাম নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও পাণ্ডব চক্রবর্তী ।
উল্লেখ্য, প্রায় দু’দশক কবি নজরুল ইসলাম বিনা চিকিৎসায় কলকাতায় কাটান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাকে অনুরোধ করেন, কবিকে বাংলাদেশ পাঠানোর জন্য। ইন্দিরা গান্ধীকে তিনি বলেন, কবির জন্মদিনে (১৯৭২) বাংলাদেশের মানুষ কবিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করতে ইচ্ছুক। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠানো হয় কবিকে। কবিকে বাংলাদেশ থেকে ফেরানোর আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিবুর রহমানও কবিকে তাঁর দেশের মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেননি। কবির কনিষ্ঠ পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ হঠাৎ অকালে পরলোক গমন করেন (১৯৭৪)। কবি পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কবিকে এপার বাংলায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ধাক্কা খায়। ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা তখন তুঙ্গে। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা (জুন, ১৯৭৫)। মাস খানেক পরে কবি অসুস্থ হলে ( ২২ জুলাই, ১৯৭৫) তাঁকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশেও পালাবদল ঘটে, সপরিবারে খুন হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী মুজিবুর রহমান। কবিকে জীবনের শেষ এক বছর একমাস আট দিন ১১৭ নম্বর কেবিনে কার্যত ফেলে রাখা হয়। অবশেষে, সবার অবহেলাকে উপেক্ষা করে ২৯ অগাস্ট ১৯৭৬ সালের বেলা ১০ টা ১০ মিনিটে আঁধারে অগ্নিসেতু নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত রেখে অভিমানে চিরবিদায় নেন বিদ্রোহী। সেদিনও কবি নজরুলের শোকে কাতর হয়েছিল নিমশা গ্রাম।
আজ পঞ্চাশ বছর পরে নিমশা গ্রামজুড়ে ছিল তারই প্রতিচ্ছবি। কবি নজরুল সংঘের পক্ষে বিকি কাজী বলেন, কবি নজরুল ইসলাম সম্পর্কে নিমশার মানুষের রয়েছে একটা আলাদা আবেগ। তিনি বলেন, সারাবছরই কবি নজরুল সংঘের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকি।

সর্বাধিক পাঠিত

কবি সাম্যবাদী কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উদযাপন

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জামুড়িয়ার নিমশা কবি নজরুল সংঘের কবির প্রয়াণের পঞ্চাশ বর্ষপূর্তিতে স্মরণ

আপডেট : ৩০ অগাস্ট ২০২৬, রবিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন গতি : আসানসোলঃ পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি-শিল্পাঞ্চলের জামুড়িয়ার নিমশায় কবি নজরুল সংঘের উদ্যোগে কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন গ্রামের মানুষ। মূল অনুষ্ঠানটি হয় নিমশা হাটতলায় কবির আবক্ষ মূর্তির সম্মুখে। অনুষ্ঠানে কবির মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। কবির স্মৃতি বিজড়িত নিমশায় তাঁর প্রয়াণের অর্ধশতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনাসভা হয় এবং বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগে ৭০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে । ‘ক’ বিভাগে অন্তরা মন্ডল, জয়ন্তী পালন, অর্কনীল মণ্ডল এবং ‘খ’ বিভাগে পবিত্র রুইদাস , মানস ঘোষ, সামরীন কাজী প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে। কৃতিত্ব অর্জনকারীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্মারক ও মানপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অঙ্কন শিল্পী রাম নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় ও পাণ্ডব চক্রবর্তী ।
উল্লেখ্য, প্রায় দু’দশক কবি নজরুল ইসলাম বিনা চিকিৎসায় কলকাতায় কাটান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাকে অনুরোধ করেন, কবিকে বাংলাদেশ পাঠানোর জন্য। ইন্দিরা গান্ধীকে তিনি বলেন, কবির জন্মদিনে (১৯৭২) বাংলাদেশের মানুষ কবিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর জন্মজয়ন্তী পালন করতে ইচ্ছুক। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশ পাঠানো হয় কবিকে। কবিকে বাংলাদেশ থেকে ফেরানোর আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিবুর রহমানও কবিকে তাঁর দেশের মাটিতে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেননি। কবির কনিষ্ঠ পুত্র কাজী অনিরুদ্ধ হঠাৎ অকালে পরলোক গমন করেন (১৯৭৪)। কবি পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কবিকে এপার বাংলায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ধাক্কা খায়। ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা তখন তুঙ্গে। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা (জুন, ১৯৭৫)। মাস খানেক পরে কবি অসুস্থ হলে ( ২২ জুলাই, ১৯৭৫) তাঁকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশেও পালাবদল ঘটে, সপরিবারে খুন হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী মুজিবুর রহমান। কবিকে জীবনের শেষ এক বছর একমাস আট দিন ১১৭ নম্বর কেবিনে কার্যত ফেলে রাখা হয়। অবশেষে, সবার অবহেলাকে উপেক্ষা করে ২৯ অগাস্ট ১৯৭৬ সালের বেলা ১০ টা ১০ মিনিটে আঁধারে অগ্নিসেতু নির্মাণের কাজ অসমাপ্ত রেখে অভিমানে চিরবিদায় নেন বিদ্রোহী। সেদিনও কবি নজরুলের শোকে কাতর হয়েছিল নিমশা গ্রাম।
আজ পঞ্চাশ বছর পরে নিমশা গ্রামজুড়ে ছিল তারই প্রতিচ্ছবি। কবি নজরুল সংঘের পক্ষে বিকি কাজী বলেন, কবি নজরুল ইসলাম সম্পর্কে নিমশার মানুষের রয়েছে একটা আলাদা আবেগ। তিনি বলেন, সারাবছরই কবি নজরুল সংঘের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে থাকি।