দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতা: আসন্ন পুরসভা ভোটে কি তৃণমূলের সঙ্গে জোট করবে বামেরা? ‘ভোট চুরি’ সহ নানা দাবিতে দিল্লির রাজপথে একজোট হওয়া এবং একই মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমএ বেবির উপস্থিতির পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজ্য রাজনীতিতে। তবে এবার সমস্ত জল্পনায় দাগ টানলো বামেরা। তাদের সাফ কথা, রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়। তবে আলোচনার দরজা খোলা হাত শিবিরের জন্য।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে লাগাতার বিরোধী ঐক্যের উপর জোর দিচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও প্রথম থেকেই বাম ও কংগ্রেস, দুই শিবিরের তরফ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তৃণমূলের সঙ্গে তারা জোটে যাবে না। এই আবহেই দিল্লিতে সকল বিরোধী একজোট হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে। একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে বাম ও তৃণমূলকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমএ বেবিকে একই মঞ্চে দেখার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে আসন্ন পুরসভা ভোটে বাম ও তৃণমূল জোট করবে কিনা। বুধবার এই সংক্রান্ত বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে জোট না করার। যদিও জোট নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনায় রাজি বামেরা। আপাতত তাদের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বামেরা। হাত শিবিরের জন্য কয়েকটি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পরে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হতে পারে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে কোনওরকম বোঝাপড়ায় রাজি নয় তারা।
এই বিষয়ে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের পার্টির অবস্থান স্পষ্ট। জাতীয় স্তরে বিজেপিকে ঠেকাতে ইন্ডিয়া জোটের তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে তা হবে না।” একই সুর সিপিআই নেতা প্রবীর দেবের গলায়ও। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূলের সঙ্গে জোটের কোন প্রশ্নই ওঠে না।” বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, “পুরভোটে প্রত্যয়ে এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি একরকম নয়। কোথাও একা লড়াই, আবার কোথাও সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের প্রশ্নই নেই।”
নতুন গতি 










