হাসান লস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনের সবথেকে বেশি সংখ্যক বাঘের আক্রমণে মৃত্যু মিছিল কুলতলী ব্লকের মৎস্যজীবীর। বিগত দিনে মহিলা মৎস্যজীবী বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হলেও দেহ ময়নাতদন্ত না হওয়ায় সরকারি ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত দেউল বাড়ির আছিয়া বিবির পরিবার। এবার অসীম সাহসিকতায় স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহটি বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনে। এমন খবর চাউর হতেই কুলতলি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক এর একাধিক কর্মী মৃত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে সরকারি পরিষেবার বিষয়ে অবগত করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। গত ১৭ই জুন কলস ক্যাম্পের ফুলবাড়ী এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বন্দনা দাস ও তার স্বামী গৌতম দাস।
নৌকায় রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে ভাত বাড়ার মুহূর্তেই বাঘ নৌকায় লাফিয়ে বন্দনার ঘাড়ে কামড় দিয়ে টানতে শুরু করে। এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে গৌতম দাস ঝাঁপিয়ে পড়ে স্ত্রীর দেহের উপর এবং সাথে সাথে প্রচন্ড আওয়াজ এ চিৎকার করতে থাকলে বাঘ বন্দনা কে ছেড়ে দেয়। বাঘ কিছুটা দূরে থাকলেও প্রাণের মায়া না করে গৌতম দাস বাঘের মুখ থেকে স্ত্রীর দেহটি ফিরিয়ে নিয়ে এলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তৎক্ষণাৎ তার মৃত্যু ঘটে, পরে দেহটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় কুলতলী থানার পুলিশ। বাঘের আক্রমণে মৃত্যু মৎস্যজীবীর সরকারি ক্ষতিপূরণের বিষয়ে বিধানসভায় জোরালো আওয়াজ তোলেন গোসাবার বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এই বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে ভাবতে শুরু করে। আজ কুলতলীতে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিককরণে মৃত ওই মহিলা মৎস্যজীবীর পরিবারের সদস্যদের হাতে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন এ ডি এম এলএ, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক সহ জন প্রতিনিধি প্রণতি মাঝি।
কুলতলীতে এই প্রথম কোন মহিলা বাঘের আক্রমণের শিকার পেল সরকারি ক্ষতিপূরণ। এই পরিবারের রয়েছে এক চিলতে বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা জরাজীর্ণ নতুন বাড়ির জন্য আধিকারিক দেরকেও জানান এই পরিবার । সুন্দরবনের কুলতলীতে সম্প্রতি জীবিকার তাগিদে নদী-খালে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে বন্দনা দাস (৩৭) নামের এক মহিলা প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের হামলায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
নতুন গতি 













