দেবজিৎ মুখার্জি: বিদেশি সংস্থার মালিকানায় চলে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক আইডিবিআই। প্রতিবাদ জানাতে দেশজুড়ে কর্মসূচিতে নামতে চলেছে ব্যাংকের কর্মীরা। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা, তথা কংগ্রেস সাংসদ, রাহুল গান্ধী।
গত বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইডিবিআই ব্যাঙ্কের পুনর্গঠন ও বিলগ্নীকরণ প্রস্তাবে অনুমোদন মেলায় বিক্রি হবে ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ ইক্যুয়িটি এবং মালিকানা যেতে চলেছে কানাডার বিনিয়োগকারী সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্স ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংস লিমিটেডের হাতে। এই মর্মে তাদের তরফ থেকে ৫২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে, যা দেশের আর্থিক ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগ বলে দাবি করেছে মোদি সরকার।
প্রতিবাদ জানাতে আন্দোলনে নেমেছে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ আইডিবিআই অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ’। আগামী ২ এবং ৩ নভেম্বর তাদের তরফ থেকে দেশব্যাপী ধর্মঘট ও অনশনের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাদের পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, “কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ব্যাঙ্কটি গত বছর ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি মুনাফা করেছে। মানুষের টাকায় যে সংস্থা তৈরি হয়েছে, সেটা মানুষের সম্পদ। সরকার সেটাকে বিক্রয়যোগ্য বলে মনে করতে পারে না।”
রাগার প্রশ্ন, “আইডিবিআইয়ের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পরও কেন তা বিক্রি করা হবে? তাঁর আক্ষেপ, “যদি বেসরকারিকরণ হয়ে যায়, তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে ব্যাঙ্কে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর সংরক্ষণ এবং তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।” সকল কর্মীদের উদ্দেশে কংগ্রেস সাংসদের বার্তা, “আমরা আপনাদের পাশে আছি।” এবার দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলন দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলে কিনা। কী হতে চলেছে আগামীদিনে বা বিরোধীরা কোন পথে হাঁটবে বিষয়টি নিয়ে, তা বলবে সময়।
নতুন গতি 











