১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

যথেষ্ট নিরাপত্তা ছিল না, পুলওয়ামা কান্ডে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন শহীদ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসের দিদি

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, বৃহস্পতিবার
  • 0

শরিফুল ইসলাম, নতুন গতি, নদীয়া:

জম্মু-কাশ্মীর পুলওয়ামায় সেদিন অতর্কিতে জঙ্গি আক্রমণে কনভয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন শহীদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী। এবার জওয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমত ক্ষোভ উগরে দিলেন ওই ঘটনায় শহীদ আর এক জওয়ানের দিদি।

১৪-ই ফেব্রুয়ারি, পুলওয়ামাকাণ্ডে ৪৪ জন সিআরপিএফের জোয়ান শহীদ হন। আহতের সংখ্যাও কম নয়। শহীদের তালিকায় ছিলেন নদীয়া জেলার তেহট্টের হাঁসপুকুরিয়ার সুদীপ বিশ্বাস।
জঙ্গি হামলা কেড়ে নিয়েছে ভাই সুদীপ কে। ভ্রাতৃ হন্তকের প্রতি তীব্র ঘৃণার পাশাপাশি সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে ঝুম্পা এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের উপরও উষ্মা প্রকাশ করেন। বলেন, “প্রাথমিক শোকের বিভরতায় তখন বুঝিনি হয়তো, তবে এখন স্পষ্ট দেখছি সকলের মতোই আমরাও, একটি আত্মঘাতী জঙ্গি সমেত গাড়ি কিভাবে জওয়ানদের কনভয়ে ঢুকে পড়লো। তিনি জোর দিয়েই বলেন , “গাফিলতি তো ছিলই। যেখানে প্রায় আড়াই হাজার জোয়ান নিয়ে কনভয় যাচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায়? “সেনাবাহিনীর শহীদের ঘটনা হয়তো নতুন নয়। দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে সেনারা শহীদ হলো ঠিকই, কিন্তু আমাদের বুকটা তো শুন্য হলো।
চাকরিটা পাওয়ার পর সবে একটু করে সচ্ছলতার মুখ দেখছিল বাবা-মা। বাড়ি হলো, এবার ওর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছিল। কত স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।” খুব আক্ষেপ নিয়ে কথা গুলো জানালেন ঝুম্পা।

বিবাহ সূত্রে পার্শ্ববর্তী গ্রামে থাকলেও ঘটনার পর থেকে দেখাশোনা ও সান্তনা দিতে নিজের পরিবার ছেড়ে বাবা-মার পাশেই আছেন।পরিবারের একমাত্র ছেলে কে হারিয়ে শোকে পাথর এই শালপুকুরিয়ার বিশ্বাস পরিবার। সহোদর একমাত্র ভাইয়ের শহীদে তিনিও প্রায় বাকরুদ্ধ । একবুক যন্ত্রণা বুকে ঝুম্পা জানালেন, ‘কয়েক মাস আগেই এসেছিল ভাই, এই মাসের শেষের দিকে আবার আসতো। সেই এলো, তবে শহীদ হয়ে।”

জম্মু-কাশ্মীর পুলওয়ামা কাণ্ডের জেরে
পাহাড় থেকে সমতল গোটা দেশ উত্তপ্ত। ঘটনার পর থেকেই চলছে শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধার্পন, একই সঙ্গে জঙ্গিদের প্রতি ধিক্কার ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতির কথা বিচার করে বিরোধীরা যতটা সম্ভব সরকারের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এরই মাঝে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অস্থির পরিবেশ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পারে মরিয়া শাসক বিজেপি অভিযোগ।
সাধারণ জনতা থেকে বিভিন্ন মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন কাজের নমুনা টেনে ইঙ্গিত দিচ্ছেন শোক প্রকাশে যতটা না আন্তরিক কেন্দ্র, তার থেকেও আত্মপ্রকাশেই ব্যস্ত বিজেপির মোদি অমিত শাহরা।

সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে , সদ্য শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুলওয়ামা কাণ্ডে কেন্দ্র বিরোধী মন্তব্য যথেষ্টই বিপাকে ফেলতে পারে বিজেপি চালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে, মনে করছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ।

মামূন ন্যাশনালের ধারাবাহিক সাফল্য উচ্চমাধ্যমিকেও

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

যথেষ্ট নিরাপত্তা ছিল না, পুলওয়ামা কান্ডে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন শহীদ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসের দিদি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, বৃহস্পতিবার

শরিফুল ইসলাম, নতুন গতি, নদীয়া:

জম্মু-কাশ্মীর পুলওয়ামায় সেদিন অতর্কিতে জঙ্গি আক্রমণে কনভয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রথম প্রশ্ন তুলেছিলেন শহীদ বাবলু সাঁতরার স্ত্রী। এবার জওয়ানদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমত ক্ষোভ উগরে দিলেন ওই ঘটনায় শহীদ আর এক জওয়ানের দিদি।

১৪-ই ফেব্রুয়ারি, পুলওয়ামাকাণ্ডে ৪৪ জন সিআরপিএফের জোয়ান শহীদ হন। আহতের সংখ্যাও কম নয়। শহীদের তালিকায় ছিলেন নদীয়া জেলার তেহট্টের হাঁসপুকুরিয়ার সুদীপ বিশ্বাস।
জঙ্গি হামলা কেড়ে নিয়েছে ভাই সুদীপ কে। ভ্রাতৃ হন্তকের প্রতি তীব্র ঘৃণার পাশাপাশি সহোদর ভাইয়ের মৃত্যুতে ঝুম্পা এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের উপরও উষ্মা প্রকাশ করেন। বলেন, “প্রাথমিক শোকের বিভরতায় তখন বুঝিনি হয়তো, তবে এখন স্পষ্ট দেখছি সকলের মতোই আমরাও, একটি আত্মঘাতী জঙ্গি সমেত গাড়ি কিভাবে জওয়ানদের কনভয়ে ঢুকে পড়লো। তিনি জোর দিয়েই বলেন , “গাফিলতি তো ছিলই। যেখানে প্রায় আড়াই হাজার জোয়ান নিয়ে কনভয় যাচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায়? “সেনাবাহিনীর শহীদের ঘটনা হয়তো নতুন নয়। দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে সেনারা শহীদ হলো ঠিকই, কিন্তু আমাদের বুকটা তো শুন্য হলো।
চাকরিটা পাওয়ার পর সবে একটু করে সচ্ছলতার মুখ দেখছিল বাবা-মা। বাড়ি হলো, এবার ওর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা হচ্ছিল। কত স্বপ্ন ছিল। সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।” খুব আক্ষেপ নিয়ে কথা গুলো জানালেন ঝুম্পা।

বিবাহ সূত্রে পার্শ্ববর্তী গ্রামে থাকলেও ঘটনার পর থেকে দেখাশোনা ও সান্তনা দিতে নিজের পরিবার ছেড়ে বাবা-মার পাশেই আছেন।পরিবারের একমাত্র ছেলে কে হারিয়ে শোকে পাথর এই শালপুকুরিয়ার বিশ্বাস পরিবার। সহোদর একমাত্র ভাইয়ের শহীদে তিনিও প্রায় বাকরুদ্ধ । একবুক যন্ত্রণা বুকে ঝুম্পা জানালেন, ‘কয়েক মাস আগেই এসেছিল ভাই, এই মাসের শেষের দিকে আবার আসতো। সেই এলো, তবে শহীদ হয়ে।”

জম্মু-কাশ্মীর পুলওয়ামা কাণ্ডের জেরে
পাহাড় থেকে সমতল গোটা দেশ উত্তপ্ত। ঘটনার পর থেকেই চলছে শহীদ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধার্পন, একই সঙ্গে জঙ্গিদের প্রতি ধিক্কার ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। পরিস্থিতির কথা বিচার করে বিরোধীরা যতটা সম্ভব সরকারের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। এরই মাঝে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অস্থির পরিবেশ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পারে মরিয়া শাসক বিজেপি অভিযোগ।
সাধারণ জনতা থেকে বিভিন্ন মিডিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের বিভিন্ন কাজের নমুনা টেনে ইঙ্গিত দিচ্ছেন শোক প্রকাশে যতটা না আন্তরিক কেন্দ্র, তার থেকেও আত্মপ্রকাশেই ব্যস্ত বিজেপির মোদি অমিত শাহরা।

সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে , সদ্য শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুলওয়ামা কাণ্ডে কেন্দ্র বিরোধী মন্তব্য যথেষ্টই বিপাকে ফেলতে পারে বিজেপি চালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে, মনে করছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ।